ইতিহাস চট্টগ্রাম

বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানঃ বিভাগীয় কমিশনার

 

মহান বিজয় দিবস-২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গনে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পাঁচ শতাধিক সদস্যের সম্মানে সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শিফাত বিনতে আরা ও সহকারী কমিশনার (ভুমি-চান্দগাঁও) প্লাবন কুমার বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ আহসান হাবীব পলাশ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবির ও জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন। বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত। অনুষ্ঠানের শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ, টুপি ও উত্তরীয় পরিধান, নগদ অর্থ ও গিফট বক্স দিয়ে সংবর্ধনা দেয়া হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ট সন্তান। ১৯৭১ সালে ৯ মাসব্যাপী যুদ্ধে যারা শহিদ হয়েছে, লাঞ্চিত হয়েছে তারা কোন কিছু পাওয়ার আশায় যুদ্ধে যায়নি। পরিসংখ্যান বলছে, সুস্থ ও বিবেকবান মানুষের পক্ষে একটি বড় শক্তির পেছনে যুদ্ধে নেমে দেশ স্বাধীনতার কথা চিন্তা করতে পারার কথা নয়। এই পরিসংখ্যানকে মিথা করে দিয়ে পৃথিবীর বুকে একটি মানচিত্র আঁকার জন্য, নিজেদের বাসভূমি গড়ার জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে এগিয়ে এসেছিলেন এটা কোন তুলনা দিয়ে প্রমাণ করে দেখানো যাবে না। এ জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অপরিসীম সাহস ও দেশপ্রেমকে অবমূল্যায়ন করার ধৃষ্টতা কারো নেই।
দেশের স্বাধীনতার ধীনতার পরেও আমরা বারবার পথ হারিয়েছি। মুক্তিযুদ্ধে আপনাদের যে অবদান ও স্বপ্ন, সে স্বপ্নকে দেখে আমরা স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে সবসময় আন্দোলন করেছি। এখন আপনাদের আত্মত্যাগের কেউ নেই আমাদের পথ চলার পথ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা একটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রবেশ করেছি। আমরা আশা করছি, অত্যন্ত আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সকলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠুু নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেব। জনগণের রায়ে প্রতিফলিত হয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আগামী ১০০ বছরের বাংলাদেশ গড়ার একটি সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। বিজয়ের এই দিনে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ ও সকল বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা এদেশের বীর সন্তান। আজকের বিজয় দিবসে বীর সন্তান ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দিতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশ প্রেমিক ও মহাকাব্যের একটি রচনা তৈরী করে আমাদের একটি রাষ্ট্র দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে, দেশপ্রেমিক বীর সন্তানেরা এখনো আমাদের মাঝে আছে। আমরা তাদের সুস্থতা ও সুদীর্ঘ জীবন কামনা করি, যাতে আমাদের পরের প্রজন্ম বীর বীর সন্তানদের দেখে অনুপ্রাণিত হতে পারে।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ একরামুল করিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবঃ শহীদুল্লাহ চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজল বারিক, চট্টগ্রাম মহানগর কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাব উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ এইচ এম জিলানী চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মোঃ শাহ আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী হোসেন আহমদসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যগণ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।###

Related Posts