চট্টগ্রাম প্রেসনোট

চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসের সভা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত

 

 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন বলেছেন, রেমিট্যান্স হচ্ছে দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড। প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে দিন দিন আরও শক্তিশালী করছে। এক সময় দক্ষতা অর্জন ছাড়া আমাদের দেশের লোকজন মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে কায়িক পরিশ্রম করার পরও কিছুই করতে পারতো না। শুধু দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বিদেশে গেলে আর কষ্ট পেতে হবে না। তারা নিজেরাই স্বাবলম্বী হবে এবং দেশকে আলোকিত করবে। দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে প্রবাসীদের ভ‚মিকা অপরিসীম। দেশে ও বিদেশে কোন প্রবাসী যাতে দালালের খপ্পরে পড়ে বা কোন ধরণের হয়রানির শিকার না হন, সে ব্যাপারে আমাদেরকে আরো সর্তক থাকতে হবে। জীবনে উন্নতি করতে চাইলে রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে, নৈতিকতা চর্চা করতে হবে। আজ ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ও জাতীয় প্রবাসী দিবস-২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে নগরীর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন এবং জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস আয়োজিত আলোচনা সভা ও চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসী ও জাতীয় প্রবাসী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে-‘দক্ষতা নিয়ে যাবো বিদেশ, রেমিট্যান্স নিয়ে গড়বো স্বদেশ’। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভার পূর্বে সার্কিট হাউজ চত্ত¡র থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভাগীয় কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, বাংলাদেশ কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার, ওয়েল ফেয়ার সেন্টার, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী মেধাবী সন্তানের হাতে শিক্ষাবৃত্তির চেক প্রদান, জেলার সর্বোচ্চ রেমিটেন্স প্রেরণকারী ব্যক্তি ও সর্বোচ্চ রেমিটেন্স আহরণকারী ব্যাংক প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেয়া হয়। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে নগরীর আগ্রাবাদস্থ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস সংলগ্ন মাঠে দিনব্যাপী জব ফেয়ারের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথি বলেন, প্রবাসীরা আমাদের অমূল্য সম্পদ। প্রবাসীরা যেরূপ তাদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়ে এই দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, সেরূপ সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। বিদেশে দক্ষ শ্রমিক প্রেরণের মাধ্যমে রেমিটেন্স আরও অনেক গুণ অর্জন করা সম্ভব। এক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি গঠনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মহেন্দ্র চাকমার সভাপতিত্বে ও হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর প্রবাসী কল্যাণ ডেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিকেটিটিসি) অধ্যক্ষ প্রকৌশলী পলাশ কুমার বড়ুয়া, মহিলা টিটিসি’র অধ্যক্ষ প্রকৌশলী আশরিফা তানজীম, ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান শহিদুল্লাহ মজুমজার, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক হাসান মোঃ শাহরিয়ার, প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক আতিকুল আলম, অসরকারী সংস্থা প্রত্যাশীর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মনোয়ারা বেগম। বক্তব্য রাখেন সফল অভিবাসী এইচ.এম ইউসুফ, মেসার্স থ্রি স্টার ইন্টারন্যাশনালের স্বত্ত¡াধিকারী মোঃ আবদুল খালেক। এসময় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার, রিক্র্যুটিং এজেন্সী, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মহেন্দ্র চাকমা বলেন, প্রবাসীরা আমাদের অমূল্য সম্পদ। তাদের কল্যাণ, সুরক্ষা, মর্যাদা, ও অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের মানবিক কর্তব্য। নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মাধ্যমে বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ১৭০টি দেশে বৈধভাবে কর্মী প্রেরণ করা হচ্ছে। কোন প্রবাসী বিদেশে মৃত্যুবরণ করলে দেশে আনার পর লাশ দাফন ও পরিবহণ বাবদ তাৎক্ষণিকভাবে কর্মীর ওয়ারিশকে ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। ডিইএমও, চট্টগ্রাম জেলার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চলতি ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ৩৬৫ জন প্রবাসীর লাশ গ্রহণ করা হয়। তন্মধ্যে ৩৫১ জনের ওয়ারিশকে মোট ১ কোটি, ২২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা টাকার চেক প্রদান করা হয়। চলতি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশ গমনেচ্ছু মোট ২৮ হাজার ৫২৮ জনের রেজিস্ট্রেশন, ৩৪ হাজার ২৪৭ জনের ফিঙ্গার প্রিন্ট ও ৪ হাজার ৯১০ জনকে বহির্গমন ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।

Related Posts