চট্টগ্রাম রাজনীতি

ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে পারে তাহলে জনমানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি কঠোর হস্তে দুর্নীতি মোকাবিলার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়াও চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
তিনি বলেছেন, বিএনপি অতীতে প্রমাণ করেছে, একমাত্র বিএনপির পক্ষেই সম্ভব সেই বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সেটি হলো—দুর্নীতি। যেকোনো মূল্যে আগামী বিএনপি সরকার দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে— এই দুটি (দুর্নীতি মোকাবিলা ও জননিরাপত্তা) হচ্ছে আমাদের কমিটমেন্ট এই দেশের মানুষের কাছে। কারণ বিএনপি সরকার অতীতেও প্রমাণ করেছে ’৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যেই সরকার ছিল, তারা দুর্নীতিতে দেশকে নিচের দিকে নিয়ে গিয়েছিল।
২০০১ সালে যখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আপনাদের রায়ে দেশের দায়িত্ব পান, তখন ধীরে ধীরে ধীরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে দেশকে বের করে নিয়ে এসেছেন।
রবিবার দুপুরে নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি—সব করতে পারে। প্রিয় ভাই-বোনেরা, বিগত সময় যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছেন, আপনারা দেখেছেন যেই হোক না কেন এমনকি আমাদের দলের অনেক লোক—যারা কোনো অনৈতিক কাজে নিজেকে জড়িত করেছে; আমরা তাদেরকেও ছাড় দেইনি। আজ এই দেশের জনগণ, এই দেশের মানুষ যদি বিএনপির পাশে থাকে- ইনশাআল্লাহ আগামী দিনেও আমরা একইভাবে কঠোর হস্তে দেশের আইনশৃঙ্খলাকে নিয়ন্ত্রণ করব; যাতে দেশের সাধারণ মানুষ খেটে খাওয়া মানুষ যাতে করে নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, এই সেই চট্টগ্রাম, এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি—যেখান থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি, যেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হয়েছিলেন।
প্রিয় ভাই-বোনেরা, এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি, যেখান থেকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমির সাথে আমি এবং আমার পরিবারের একটি আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের একটি বড় দাবি আছে যে, দাবিটির ব্যাপারে বিগত বিএনপি সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল; কিন্তু সম্পূর্ণ করে যেতে পারেনি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু সময়ের অভাবে সম্পূর্ণ করে যেতে পারেনি। আমরা দেখেছি বিগত ১৫ বছর এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ কেউ গ্রহণ করেনি।
“এই উদ্যোগ যদি গ্রহণ করা হয়, তাহলে শুধু এই চট্টগ্রামের মানুষ নয়- সমগ্র চট্টগ্রামসহ সারা দেশে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে, সারা দেশে ব্যবসা বাণিজ্য অনেক চাঙ্গা হবে যাতে করে মানুষের কর্মসংস্থান হবে; মানুষ চাকরি-ব্যবসা-বাণিজ্য করে খেতে পারবে। কী সেটি? বাণিজ্যিক রাজধানী।
ইনশাআল্লাহ বিএনপি আগামী ১২ তারিখে নির্বাচনে আপনাদের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে খালেদা জিয়ার সেই উদ্যোগ যত দ্রুত সম্ভব, আগামী বিএনপি সরকার সেটিকে বাস্তবায়ন করবে—যাতে করে এই এলাকার মানুষ ব্যাংকিং সুবিধাসহ সকল কিছু এখানে বসেই কাজ সেরে নিতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৫ বছর যেমন আপনাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সেই রকম একটি ষড়যন্ত্র আবারো শুরু হয়েছে। আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান, এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সকলে সজাগ থাকবেন, সতর্ক থাকবেন। যাতে আবার আপনাদের অধিকার, আপনাদের ভোটের অধিকার, আপনাদের কথা বলার অধিকার, আপনাদের বেঁচে থাকার অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে যেতে কেউ না পারে।
ধানের শীষে ভোট দিয়ে ‘বিএনপির ওপর আস্থা রাখতে জনগনের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান। চট্টগ্রাম,কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলার দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, “আমরা চাই, সকলকে নিয়ে আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য; সেই পাহাড়ের মানুষ হোক, সেই সমতলের মানুষ হোক, সে ইসলাম ধর্মের মানুষ হোক বা অন্য কোনো ধর্মের মানুষ হোক—আমরা সকলকে নিয়ে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। সেই বাংলাদেশ যদি গড়ে তুলতে হয়, আজকে এখানে যে লাখো মানুষ আছেন- আপনাদের মাধ্যমে আপনাদের এলাকার লক্ষ কোটি মানুষের কাছে আহ্বান রাখব—গণতন্ত্রে যারা বিশ্বাস করেন, মানুষের বাক স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাস করেন, গণতন্ত্রের স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাস করেন; সকলকে আহ্বান জানাব—ধানের শীষ তথা বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন।
ইনশাল্লাহ ধানের শীষ এবং বিএনপি নির্বাচিত হলে আপনাদেরকে সাথে নিয়ে এদেশের খেটে খাওয়া মানুষকে সাথে নিয়ে বিএনপি তাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজে হাত দেবে অতীতের মতো। সেই আমি একটি কথা বলে থাকি—‘করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “যদি বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের মতো গড়ে তুলতে হয়, আমাদের সকল রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যেই কারণে ওয়াসিম আকরামসহ বহু মানুষ তাদের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। তাদের জীবনের মূল্যকে যদি আজ সম্মান দিতে হয়, তাহলে আমাদেরকে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করতে হবে।
এবার তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “১২ তারিখ কখন যাবেন ভোট দিতে?”
এসময়ে নেতাকর্মীরা সমস্বরে বলে ওঠেন, “ফজরের নামাজ পড়ে।”
তারেক রহমান বলেন, না, না, ফজরের নামাজের পরে নয়। এবার তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে উঠতে হবে। তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন। এবং যার যার এলাকায় ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করবেন। তারপরে লাইন ধরে ভোটের জন্য দাঁড়িয়ে যাবেন- যখন ভোট গ্রহণ শুরু হবে। পারবেন তো?
এসময়ে নেতাকর্মীরা বলতে থাকেন ‘পারব’। তারেক জবাব দেন, ‘ইনশাল্লাহ।”
দুই দশক বাদে চট্টগ্রামে জনসভায় বক্তৃতা করলেন তারেক রহমান। এর আগে ২০০৫ সালের ৬ মে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে জনসভা করেছিলেন তারেক রহমান। সে সময় তিনি ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।
এবার দলের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচনি প্রচার যাত্রার দ্বিতীয় পর্ব শুরু করলেন চট্টগ্রাম থেকে। গত বৃহস্পতিবার সিলেটে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় জনসভা করে নির্বাচনি যাত্রা করেন তারেক রহমান।
সকাল থেকে পলোগ্রাউন্ড মাঠে খণ্ড খণ্ড মিছিল আসতে শুরু করে। সকাল ১০টার মধ্যে পুরো মাঠ কানায় কানায় ভরে যায়।

Related Posts