চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসেঃ সেবার মান বেড়েছে, কমেছে ভোগান্তি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

সেবা প্রার্থীদের আস্থার অন্যতম ঠিকানা চট্টগ্রাম নগরীর মনসুরাবাদস্থ বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস। এখানে প্রতিদিন এমআরপি ও ই-পাসপোটের আবেদন জমা দিতে আসা সেবা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কোন ধরণের ভোগান্তি ছাড়াই মিলছে কাঙ্খিত সেবা। তবে এমআরপি’র চেয়ে ই-পাসপোর্টের দিকে মানুষ অনেক বেশি ঝুঁকছে। ২০১৯ সালের ২০ জুলাই পরিচালক হিসেবে মোঃ আবু সাইদ যোগদানের পর থেকে এ অফিসে শৃঙ্খলার পাশাপাশি সেবা কার্যক্রম আরও বেগবান হয়েছে। অফিসে আগত সেবা প্রার্থীদের যে কোন ধরণের সমস্যা সমাধানে পরিচালকের নেতৃত্বে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যথেষ্ট আন্তরিক। দালাল রোধসহ রোহিঙ্গারা যাতে এখান থেকে কোন ভাবেই পাসপোর্ট পেতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারী রয়েছে। ইতোপূর্বে ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকারের কাছ থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল পুরস্কার লাভ করেছেন পরিচালক মোঃ আবু সাইদ।
বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক জানান, গত মে মাসে ই-পাসপোর্টের আবেদন জমা পড়েছে মোট ৩ হাজার ৪৭৬টি, বিতরণ করা হয়েছে মোট ৫ হাজার ৭২৯টি পাসপোর্ট। নবায়ন ও নতুন মিলে এমআরপি পাসপোর্টের আবেদন জমা পড়েছে মোট ৫৩৬টি, বিতরণ করা হয়েছে মোট ২ হাজার ৪৯২টি পাসপোর্ট। মে মাসে এমআরপি ও ই-পাসপোর্ট মিলে মোট আবেদন জমা পড়ে মোট ৪ হাজার ১২টি ও বিতরণ করা হয় ৮ হাজার ২২১টি। গত ৩০ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত ই-পাসপোর্ট ও এমআরপি মিলে মোট আবেদন জমা পড়ে ৩ হাজার ১২৭টি ও বিতরণ করা হয় ২ হাজার ৪২৯টি পাসপোর্ট। চিহ্নিত কয়েকজন দালাল সুবিধে করতে না পেরে ভূয়া ফেসবুক আইডি খুলে আজেবাজে কমেন্ট লিখে এ অফিসের সুনাম নষ্ট করতে চেয়েছিল। কৌশলে তাদেরকে অফিসে ঢেকে এনে আর কোন দিন এসব কাজে অফিসের আঙ্গিনায় আসবেনা মর্মে মুছলেখা নেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে সেবা দেয়া হয়। ব্যাংকে নির্ধারিত ফি’র টাকা জমা সাপেক্ষে পুরুষ ও মহিলারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে আলাদা আলাদা কাউন্টারে দাড়িঁয়ে তাদের পাসপোর্ট আবেদন জমা করে। এর পর নির্ধারিত কক্ষে আবেদনকারীর ছবি তোলা, আই কন্টাক্ট ও ফিঙ্গার প্রিন্টসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। একই সময়ে নির্দিষ্ট কাউন্টারে পাসপোর্ট বিতরণ করা হয়। পজেটিভ পুলিশ রিপোর্ট পাওয়া সাপেক্ষে পাসপোর্ট তৈরীর কার্যক্রম শুরু হয়। পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করার কারণে এখানে কোন ধরণের বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই। গেইট থেকে অফিস পর্যন্ত পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যরা পালা করে এখানে দায়িত্ব পালন করছেন।
পাসপোর্ট পেতে চট্টগ্রাম জেলার সন্ধীপ, মিরসরাই, সীতাকুন্ড, ফটিকছড়ি, ভূজপুর, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও নগরীর পাহাড়তলী, আকবর শাহ, ডবলমুরিং, সদরঘাট, বন্দর, ইপিজেড, পতেঙ্গা, হালিশহর, খুলশী ও বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার অধিবাসীরা নগরীর মনসুরাবাদস্থ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে এবং অন্যান্যা থানার অধিবাসীরা নগরীর পাঁচলাইশস্থ চান্দগাঁও আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আবেদন করতে পারবে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে আসা রাঙ্গুনিয়া উপজেলার খিল মোগল এলাকার ফাইরোজ নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, এ অফিসে এসে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দিয়ে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছি। কোন ধরণের ভোগান্তি ছাড়াই পাসপোর্টেও আবেদন করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ঐ শিক্ষার্থী। একই মন্তব্য করেছেন ফাইরোজের মা ইশরাত জাহান। পাসপোর্ট অফিসের পরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকভাবে সেবা দেয়ার কারণে এ অফিসের শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। ###

Related Posts