চট্টগ্রাম

ভবন নির্মাণঃ আইনজীবী-প্রশাসন বিরোধ চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের পরীর পাহাড়ে নতুন দুটি ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্তে অনড় থাকছে জেলা আইনজীবী সমিতি।

বুধবার বিকেলে সমিতির বিশেষ সাধারণ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এএইচ এম জিয়া উদ্দিন জানান। তিনি বলেন, “সেখানে স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে জেলা প্রশাসক যে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন এবং এ সংক্রান্ত যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, সভায় তার নিন্দা জানানো হয়েছে।

“আমরা আইনগতভাবে এ বিষয়ে অগ্রসর হব। পাশাপাশি ভবন দুটি নির্মাণের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

চট্টগ্রামের আদালত ভবন যেখানে, সেই পরীর পাহাড়ে দুটি ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে আইনজীবী সমিতি ও জেলা প্রশাসন।

সমিতির ওই দুই নতুন স্থাপনা নির্মাণকে জেলা প্রশাসন বলছে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’। আর সমিতির দাবি, নিয়ম মেনে ‘অনুমোদন’ নিয়েই তারা ভবন করছেন।

প্রায় ১৩০ বছর আগে নগরীর কেন্দ্রে অবস্থিত পরীর পাহাড়ে আদালত ভবনের কার্যক্রম শুরু হয়। সেখানে বর্তমানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, নতুন আদালত ভবন, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবন এবং আইনজীবীদের পাঁচটি ভবনসহ বেশ কিছু সরকারি কার্যালয় রয়েছে।

চট্টগ্রামে আইনজীবীদের চেম্বারের চাহিদা মেটাতে বিদ্যমান আইনজীবী ভবন (মূল ভবন) ও শাপলা ভবনের পাশে আরও দুটি নতুন ভবন করার উদ্যোগ নিয়েছে সমিতি।

এর মধ্যেই পরীর পাহাড়ে নতুন স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি গত সপ্তাহে স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশ করে জেলা প্রশাসন। এরপর বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন আইনজীবীরা।

যদিও জেলা প্রশাসক বলছেন, এই বিজ্ঞপ্তি কাউকে উদ্দেশ্যে করে তারা দেননি। তবে আইনজীবীদের দাবি তাদের নতুন দুই ভবন নির্মাণের উদ্যোগ ঠেকাতেই ওই বিজ্ঞাপন।

বিজ্ঞপ্তিতে জেলা প্রশাসন বলছে, পরিকল্পনাহীন বেশকিছু ‘অবৈধ ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা’ ইতিমধ্যে হয়েছে। এসব স্থাপনার কারণে মানবিক বিপর্যয় হতে পারে এবং ঐতিহাসিক পাহাড়টি রক্ষা সাংবিধানিক দায়িত্ব।

সরকারি খাস জমিতে ‘অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ’ দণ্ডনীয় অপরাধ উল্লেখ করে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়াররও হুশিয়ারি দেওয়া হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলছেন, পরীর পাহাড়ে অনুদোনহীন প্রায় সাড়ে তিনশ বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো রয়েছে। ভূমিকম্প, ভূমিধস বা অগ্নিকাণ্ডের মত কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে পরীর পাহাড়ে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা আছে। কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হলে যাতে কেউ দোষারোপ করতে না পারে সেজন্য সতর্ক করতে ওই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওয়াসা ও পিডিবিকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, পরীর পাহাড়ে সরকারি ভবন ও স্থাপনা ছাড়া অন্য কোনো স্থাপনায় সংযোগ না দিতে। নতুন সংযোগে জেলা প্রশাসনের অনুমোদন লাগবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

Related Posts