সন্দ্বীপ নিবাসি উত্তর জেলা বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন মাফিয়া ডন এ পরিণত হয়েছেন। মূলত তিনি এখন সন্দ্বীপের মূর্তিমান আতংক। তার বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি,মাটিকাটা, বালু তোলা,গরু মহিষ চুরি,জমি দখল,মাদক ব্যবসা, চাদাবাজি,লুটপাট, নারী নির্যাতন, কিশোরগ্যাং নিয়ন্ত্রণসহ শত অভিযোগ রয়েছে। বিএনপিকে তিনি এসবের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুদক,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, আশির দশকে জাতীয় পার্টির মাধ্যমে তার রাজনীতির হাতেখড়ি। এরপর ১৯৯৬ সালে তৎকালিন আওয়ামীলীগ সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমানের হাত ধরে আওয়ামীলীগে যোগ দেন। পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগদান করেন।
অভিযোগে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর তার হাতে আসে একচ্ছত্র ক্ষমতা। টেন্ডারবাজি,মাটিকাটা,লুটপাট,চাদাবাজিসহ সকল ধরনের অপরাধ তার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। আওয়ামীলীগ আমলে হওয়া টেন্ডারের কাজ তাকে ম্যানেজ করে চালিয়ে যাচ্ছে। বিনিময়ে তাকে দিতে হচ্ছে ৩-৫% কমিশন। কমিশন বাবদ তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তার কথা ছাড়া উপজেলায় কোন টেন্ডারই দেয়া যাচ্ছে না। টেন্ডার পেতে হলে তাকে ৫% কমিশন দিতে হচ্ছে। চাদাবাজি তার প্রধান পেশায় পরিণত হয়েছে। ব্যবসায়ী,ঠিকাদার,আওয়ামীলীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগ নেতাসহ বিভিন্ন খাত থেকে নিয়মিত চাদা আদায় করছেন তিনি। তার দুহাত হিসেবে খ্যাত আজিজ ও রহিম চাদা আদায় করে তার কাছে পৌছে দেয়।
দক্ষিণ সন্দ্বীপে মাটিকাটা তার নিয়ন্ত্রণে। প্রতিদিন কাটা হচ্ছে মাটি। কেউ বাধা দিলে তার উপর নেমে আসে চরম নির্যাতন।
তার নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। এ বাহিনীতে আছে কয়েকশ সদস্য। যাদের কাছে আছে নানা ধরনের অস্ত্র। এরা পুরো উপজেলায় মহড়া দেয়। তাতে লোকজন ভীত সন্ত্রস্ত থাকে। পুরো উপজেলায় তারা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। থানা পুলিশও তার কথার বাইরে যেতে পারে না।
সন্দ্বীপে তার রয়েছে কিশোরগ্যাং। পুরো উপজেলায় ১৫ থেকে ২০ টি কিশোরগ্যাং রয়েছে। ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সি কিশোররা এর সদস্য। প্রতিটি ইউনিয়নে কিশোরগ্যাং চষে বেড়ায়। তারা চাদাবাজি,সন্ত্রাস,খুন, অপহরণ, চুরি,ডাকাতিসহ নানা অপকর্ম করে বেড়ায়।
কয়েকদিন আগে সেখানে চর দখল নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তার অনুসারিরা জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি তিনি উপজেলা থেকে তার নামে ১০টি নলকূপ নিয়ে যান।এগুলো না বসিয়ে বিক্রি করে দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গত বছরের জুলাই মাসে দক্ষিণ সন্দ্বীপের কালিয়ার চরে ২৮৪টি চোরাই মহিষ আনা হয়। এগুলো নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ,হাতিয়া থেকে চুরি করে আনা হয়। এ মহিষ চুরির ঘটনায়ও তার নাম জড়িয়ে পড়ে। ঘটনা তদন্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেন। তদন্তে তার অনুসারিদের নাম আসে বলে জানা যায়।
নারীঘটিত ঘটনায়ও তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার নারীঘটিত ঘটনায় একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল।
নিরীহ মানুষের জমি দখলেও তিনি সিদ্ধহস্ত। তিনি অনেকের জমি দখলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছে না। মুখ খুললেই নেমে আসে অকথ্য নিযাতন।
সম্প্রতি সংঘটিত রিফাত হত্যাকান্ডেও তার অনুসারীদের নাম বেরিয়ে আসে। এ ঘটনায় তার ইন্ধন থাকার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, বেলায়েত হোসেন এহেন অপকর্ম নাই যা করছে না। টেন্ডারবাজি,মারামারি,লুটপাট,চুরি,ডাকাতিসহ সব ঘটনায় তিনি জড়িত। তার অত্যাচারে সন্দ্বীপবাসিরা অতীষ্ট।
এ প্রসঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন,আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো হাস্যকর এবং কাল্পনিক,যার কোন ভিত্তি নাই। এসব অভিযোগের কোনটি সঠিক নয়। অসত্য ও বানোয়াট।











