অপরাধ জাতীয়

রাজমিস্ত্রী থেকে অঢেল সম্পদের মালিক চেয়ারম্যান বাবু

সিনিউজ ডেস্ক

এক সময় ‘নির্মাণ শ্রমিক (রাজমিস্ত্রি)’ ও মুদি দোকানির কাজ করতেন, পরে সক্রিয় হন রাজনীতিতে। রাজনৈতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় নিজের আধিপত্য বিস্তার করে হয়েছেন অঢেল সম্পদের মালিক। বলা হচ্ছে বহুল আলোচিত সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যা মামলার আসামি ও মূল হোতা জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর কথা।

দৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

সাবিনা ইয়াসমিন নামে এক নারী বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান বাবু একসময় সাধুরপাড়া ইউনিয়নের নিজ এলাকায় মুদি দোকান চালিয়ে কোনোরকমে দিনাতিপাত করতেন। আগুনে একসময় সেই দোকান পুড়ে গেলে এক চাচাত ভাইয়ের সহযোগিতায় রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করেন।

গ্রেপ্তার ইউপি চেয়ারম্যানকে হেলিকাপ্টারে ঢাকায় আনছে র‌্যাবগ্রেপ্তার ইউপি চেয়ারম্যানকে হেলিকাপ্টারে ঢাকায় আনছে র‌্যাব
সেই চাচাতো ভাই ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক বড় কর্মকর্তা। ভাইয়ের সেই ক্ষমতাকে ব্যবহার করে সব জায়গায় নিজের দাপট দেখাতেন। একসময় প্রভাবশালী সেই পুলিশ কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে মোটা অংকের অর্থের মালিক বনে যান ইউপি চেয়ারম্যান বাবু। ফলে তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে এলাকাবাসীর সাহস ছিল না।

তিনি আরও বলেন, বাবুর নানা ধরনের বৈধ-অবৈধ ব্যবসা রয়েছে। মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, তদবির বাণিজ্য সবই করেন। তার ক্ষমতার দাপটে কেউ তার বিরুদ্ধে বলতে সাহস পান না। কারণ কেউ তার বিরুদ্ধে গেলে সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে হয়রানি ও নির্যাতন করতো।

নাম প্রকাশে একাধিক ব্যক্তি জানান, ছাত্রজীবনে জাতীয় পার্টির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজ করলেও পরে বিএনপিতে যোগ দেন বাবু। ওয়ান-ইলেভেনের সময় রাজনীতি ছেড়ে নিরপেক্ষতার ভান ধরেন।
বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয় বলেন, মাহমুদুল আলম বাবু এক সময় বিএনপির রাজনীতি করতেন। ২০১১ সালে তার চাচাতো ভাই অবসরপ্রাপ্ত এআইজি মোখলেছুর রহমান পান্নার মাধ্যমে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। পরে তিনি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হন। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের ব্যানারে বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান বনে যান। ২০২১ সারে পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এলাকায় নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন।
বুধবার (১৪ জুন) রাতে বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভির উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক নাদিমকে পিটিয়ে ইট দিয়ে মাথা থেতলিয়ে ফেলে রেখে চলে যায় সন্ত্রাসীরা। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বকশিগঞ্জ উপজেলা ও পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) বিকালে তিনি মারা যান।

Related Posts