Uncategorized অপরাধ চট্টগ্রাম

অর্থ আত্মসাতঃ ব্যাংক কর্মকর্তার ২৭ বছর কারাদণ্ড

চট্টগ্রামে গ্রাহকের ১ কোটি ৫৯ লাখ ১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ইফতেখারুল কবির নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে (সাময়িক বরখাস্ত) ২৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া তাঁকে ১ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। একই রায়ে তাঁর দুই সহযোগী জাকের হোসেনকে আট বছর এবং আবদুল মাবুদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মুনসী আবদুল মজিদ এই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

সাজাপ্রাপ্ত ইফতেখারুল কবির ইস্টার্ণ ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) ও আর নিজাম রোড শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক ছিলেন।

দুদকের আইনজীবী মুজিবুর রহমান রায়ের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা ইফতেখারুল কবিরকে বিভিন্ন ধারায় ২৯ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁকে ১ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সঙ্গে তাঁর দুই সহযোগীকেও কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ইস্টার্ণ ব্যাংক লিমিটেড চট্টগ্রাম নগরের ও আর নিজাম রোড শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক ইফতেখারুল কবির ও তাঁর সহযোগী জাকের হোসেন ও আবদুল মাবুদ পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহক কণা দের ১ কোটি ৫৯ লাখ ১ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। ওই ঘটনায় ২০১৯ সালের ৩ অক্টোবর দুদক চট্টগ্রামের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। তদন্ত করে তিনি নিজেই আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এতে বলা হয়, ব্যাংক কর্মকর্তা ইফতেখারুল গ্রাহক কণা দের ১ কোটি ৫৯ লাখ ১ হাজার টাকা স্থায়ী আমানতে রাখার কথা বলে কৌশলে টাকা স্থানান্তরের সই নিয়ে নেন। পরে টাকাগুলো তাঁর সহযোগীদের হিসাবে জমা করেন। সেখান থেকে চেকের মাধ্যমে ইফতেখারুল টাকাগুলো তুলে নেন। ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আদালত রায় দেন।

দুদক সূত্র জানায়, বিভিন্ন গ্রাহকের টাকা নানাভাবে আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা ইফতেখারুলের বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা করা হয়। গত ৩০ জানুয়ারি একটি মামলায় ইফতেখারুলের সাজা হয়। বাকি মামলাগুলোরও অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। সেগুলো বিচারাধীন।

Related Posts