চট্টগ্রাম মেডিকেল

জনসংখ্যা নীতি যুগোপযোগী ও হালনাগাদকরণ বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা

 

বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি-২০১২ যুগোপযোগী ও হালনাগাদকরণ বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা আজ ১২ জুন ২০২৩ ইংরেজি সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে চট্টগ্রাম নগরীর হোটেল আগ্রাবাদের কর্ণফুলী হলে অনুষ্ঠিত হয়। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ইউনিট কর্মশালার আয়োজন করেন। পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক গোলাম মোঃ আজমের সভাপতিত্বে ও রাউজান উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা লিকসন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজিএফপি) সাহান আরা বানু এনডিসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্ম সচিব আবু নুর মোঃ শামসুজ্জামান। মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা) মোঃ মতিউর রহমান। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদ, চট্টগ্রাম বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সুমন বড়–য়া, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চ.িব) পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ রুকুনুজ্জামান আজাদ, মমতা’র উপ-প্রধান নির্বাহী ও বিসিএস এসাসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মোঃ ফারুক, ইউএনপিএফ’র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ডা. আবু সাঈদ মোঃ হাসান, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেব দুলাল ভৌমিক, আইপাস বাংলাদেশ’র কর্মকর্তা ডা. কমল বিশ্বাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢা.বি) পপুলেশন সায়েন্সের অধ্যাপক মোঃ বিল্লাল হোসেন, চবি’র পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম জাহাঙ্গীর ও চট্টগ্রাম মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক একরামুল হক। কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম জেলার উপ-পরিচালক মোঃ আবুল কালাম, সহকারী পরিচালক মোঃ নাজমুল হাসান, সহকারী পরিচালক ডাঃ ছেহেলী নার্গিস, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ইউনিটের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোঃ কনক রেজা প্রমূখ। কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে অর্ধশতাধিক অংশগ্রহণকারী ৬টি গ্রæপে ভাগ হয়ে বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি-২০১২ যুগোপযোগী ও হালনাগাদ করার জন্য বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাহান আরা বানু এনডিসি বলেন, বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি বাস্তবায়ন করতে হলে সমন্বিত উদ্যোগে মা-শিশুর স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত জরুরী। এ লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ভিত্তিক জনসংখ্যা নীতি হালনাগাদ কর্মসূচী পরিচালিত হচ্ছে। জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আমরা ইতোমধ্যে এমডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছি। এসডিজির লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আমাদের যে লক্ষ্যমাত্রা সেটি অর্জন ও পঞ্চম স্বাস্থ্য জনসংখ্যা পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচী বাস্তবায়নসহ যুগোপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ ভৌগলিক অবস্থা নির্বিশেষে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা জরুরী।
তিনি বলেন, কিভাবে আমাদের লক্ষ্য সমূহ অর্জন ও ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা যাবে সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে চলতি বছর থেকে জনসংখ্যা নীতি সংশোধন ও হালনাগাদ করতে সেখানে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্ন্তভূক্ত করার আবশ্যিকতা রয়েছে। সংবিধানের ১৫-১৮ অনুচ্ছেদে আমাদের যে মূল মৌলিক অধিকার সমূহ রয়েছে সেখানে স্বাস্থ্য হচ্ছে অন্যতম। জনগোষ্ঠীকে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীতে পরিণত করে তাদেরকে কিভাবে দক্ষ মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলবো সে বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শুধু পরিবার পরিকল্পনা নয়, জনসংখ্যা নীতি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সমূহকে সম্পৃক্ত করতে হবে। জনসংখ্যা নীতি হালনাগাদে মাঠ পর্যায়ের ওয়ার্কশপগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুগোপযোগী পলিসি বাস্তবায়ন হবে মাঠ পর্যায়ে। ডিজিটাল বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তির সুফল আমরা ভোগ করছি। প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারী সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশে এখন একটি আধুনিক ও স্মার্ট জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সকলের পারফরমেন্স বাড়াতে হবে। নিরাপদ প্রসবসেবা, প্রসব পরবর্তী সেবা সমূহ আরও গতিশীল করতে হবে। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকট সত্তে¡ও সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে সাধারণ সেবা গ্রহীতাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতসহ প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারীর হার বৃদ্ধি করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে নিরাপদ সেবা দেয়ার জন্য কিভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারি সে ব্যাপারে পলিসি নিতে হবে। মানসম্মত পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিত করা গেলে বিভাগের সফলতা অবশ্যই আসবে। ###

Related Posts