চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য

সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বিশ্ব এন্টিমাইক্রোবিয়াল বিষয়ক সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত 

 

এন্টিবায়োটিক একটি রোগ প্রতিরোধক ওষুধ, যা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এন্টিবায়োটিক সঠিকভাবে সেবন না করলে শরীরে রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয় যাতে করে মানবদেহে এন্টিবডি তৈরির বিপরীত ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই এন্টিবায়োটিক ক্রয় বিক্রয়ের এবং সেবনের ক্ষেত্রে সবাইকে সচেতন হওয়ার জরুরি।
মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১২টায় চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বিশ্ব এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স’ বিষয়ক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এদিন বিশ্ব এন্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের আয়োজনে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য : “সকলে মিলে এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধ করি”।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, সব রোগে এন্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয়না আবার বিনা প্রয়োজনে কোনো ধরণের এন্টিবায়োটিক খাওয়া যাবেনা। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক সংক্রমণে সঠিক এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে। এন্টিবায়োটিকের কোর্স নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকেনা। এন্টিবায়োটিকের অপব্যবহার শরীরের জন্য এত মারাত্মক ক্ষতিকর যে, এটি করোনাভাইরাস থেকেও ভয়াবহ। জ্বর বা জটিল রোগ হলে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে পরামর্শ মতে এন্টিবায়োটিক ও অন্যান্য ওষুধ সেবন করতে হবে। মানব সভ্যতাকে বাঁচাতে হলে ভবিষ্যতে আমাদের এন্টিবায়োটিকগুলোর কার্যক্রম ঠিক রাখতে হলে আমাদের এন্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজন ব্যতিত এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত হবে না। সেজন্য অবশ্যই রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ মতো আমাদের এন্টিমাইক্রোবিয়াল (এন্টিবায়োটিক) গ্রহন করা উচিত।

চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়ার সঞ্চালনায় প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এস এম সুলতানুল আরেফিন, চট্টগ্রাম সভাপতিত্বে বিশ্ব এন্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ফার্মাকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার মাসুদ রানা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাক্তার ওয়াজেদ চৌধুরী অভি ।

প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে 250 শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল উপ- পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ সেখ ফজলে রাব্বি, রেজিষ্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রি করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রেজিষ্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া রোগীকে এন্টিবায়োটিক সেবনের পরামর্শ প্রদান এবং বিক্রি করা হতে বিরত থাকতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে ফাংগাল ইনফেকশন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এন্টিফাংগাল রেজিস্ট্যান্স থেকে বাচঁতে মাস্ক পরিধান করতে হবে। রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী এন্টিফাংগাল ঔষধের ফুল কোর্স সম্পন্ন না করা এবং জনবহুল পরিবেশ অপরিস্কার-অপরিচ্ছন্ন জীবনযাপন এন্টিফাংগাল রেজিস্ট্যান্সের অন্যতম কারণ।
অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে মানব শরীর অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্স (অকার্যকর) হয়ে উঠছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত ভীতিকর। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে।
রির্সোস পারসন হিসেবে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন: ডাঃ সাইফুদ্দিন মাহমুদ, জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), দোহাজারী 31 শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমও(সিএস) ডাঃ মোঃ নওশাদ খান, মেডিকেল অফিসার সমন্বয় ডাঃ মোহাম্মদ নুরুল হায়দার, অত্র কার্যালয় এবং বাংলাদেশ কেমিস্ট ও ড্রাগিস্ট সমিতির চট্টগ্রাম জেলার সহ- সভাপতি লায়ন আশীষ কুমার ভট্টাচার্য্য। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন জেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মোঃ মশিহুর রহমান দেওয়ান।

Related Posts