চট্টগ্রাম নির্বাচন

চট্টগ্রাম-১০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক মেয়র মনজুর আলম

এবার চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর)আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম। তিনি মঙ্গলবার বা বুধবার মনোনয়নপত্র নেবেন।
সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে মোহাম্মদ সারোয়ার আলম।
তিনি জানান, তার বাবা মনজুর আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। সেজন্য মঙ্গলবার তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র নেবেন। মূলত এলাকার মানুষজনের চাপের কারণে তিনি নির্বাচনে আসছেন।
তিনি জানান, সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম যুগ যুগ ধরে এ জনপদের সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। তিনি ১৭ বছর ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন, ৩ বছর ভারপ্রাপ্ত মেয়র ছিলেন এবং ২০১০-১৫ সাল পর্যন্ত চসিকের নির্বাচিত মেয়র ছিলেন।
জাতীয় বা সিটি করপোরেশন নির্বাচন এলেই আলোচনায় আসেন নিভৃতচারি এই রাজনীতিবিদ। এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে আলোচনায় এলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মনোনয়ন চাননি। চট্টগ্রাম-১০ আসনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পান মাত্র কয়েকমাস আগে উপ-নির্বাচনে জয়ী সাবেক যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন বাচ্চু।
তবে চট্টগ্রাম-১০ আসনে মনজুর আলমের পারিবারিব প্রভাব রয়েছে। এই আসনে তিনি এর আগেও নির্বাচন করেন। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার পরিবার। তার উদ্যোগে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে নগরজুড়ে নানা সেবামূলক কাজও বেশ প্রশংসিত। তার উদ্যোগে কাট্টলিতে নির্মিত হচ্ছে শেখ রাসেল স্টেডিয়াম।মানবিক সহায়তার জন্য তার প্রতিষ্ঠান আলাদাভাবে পরিচিত পেয়েছে চট্টগ্রামে।
তবে দলের সঙ্গে অভিমান করে ২০১০ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হন। সেবার তিনি বিপুল ভোটে হারান তিনবারের মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে। তবে ২০১৫ সালে আবারও নির্বাচনে প্রার্থী হলেও জয়ী হতে পারেননি। এরপরপরই বিএনপি ছাড়েন মনজুর আলম।। নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন রাজনীতিতে। পরে নেতাদের আহ্বানে আবারও ফিরে যান তার পুরনো দল আওয়ামী লীগে।
গত কয়েকবছর ধরে রাজনীতির চেয়েও সামাজিক কাজেই বেশি সময় দেন এই প্রবীন রাজনীতিক। মোস্তফা-হাকিম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ও হোসনে আরা মনজুর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করে তিনি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাসপাতালসহ শতাধিক জনহিতকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এসব প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানায় প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।
করোনাকালে এক বছর নিজের মেডিক্যাল অক্সিজেন বিনামূল্যে রিফিল করে দিয়েছেন। আইসোলেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে ৬ মাস নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়েছেন।
সম্প্রতি ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে গেলে আইসোলেশন সেন্টার খুলে দুই মাস সেবা দিয়েছেন। শিশুদের খেলার জন্য শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম তৈরি করেছেন।
এ ছাড়া বছরব্যাপী কার্যক্রমের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ, ইফতার বিতরণ, সেহেরি সামগ্রী বিতরণ, ঈদ উপহার ও পূজার উপহার বিতরণ করেছেন। চট্টগ্রামের বিভিন্ন আউলিয়ার মাজার, খানকাহ, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। তাঁর চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। জীবনের অন্তিম সময়ে এসে বড় পরিসরে সমাজকল্যাণে অবদান রাখতে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী হচ্ছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার নির্বাচনের খবর নতুন করে সমীকরণ তৈরি করবে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে। বদলে
যাবে অনেক হিসাব নিকাশ। কেননা আওয়ামী লীগের অনেকেরই সমর্থন থাকবে তার সঙ্গে।

##

Related Posts