চট্টগ্রাম শিল্প সাহিত্য

বর্ষা মানেই মেঘ, বৃষ্টি, নতুন প্রাণ, জেগে ওঠার গান

 

সুলতানা কাজী

মানুষের সাথে আকাশের কী যোগ!! আকাশের মনও বড্ড ভারী হয়ে আছে মেঘের ভারে। কখনো অল্প সূর্য উঁকি দিচ্ছে , কখনো ধূসর কালো ছায়ায় পুরোটা ঢাকা পড়ে যাচ্ছে আকাশ। চারদিকে নিষ্প্রাণতা! ভালো থাকার, ভালো রাখার প্রাণপণ লড়াই। সবাই যোদ্ধা!! অন্য রকম, অন্য সময়ের!! গন্তব্য অজানা…আমার, আমাদের, সকলের।।

বসে আছি, যেন অন্তহীন কালের অপেক্ষায়!! বাইরে ঝুম বৃষ্টি। কখনো জোরে, কখনো ঝিরিঝিরি। শ্রাবণ ছুঁইছুঁই। মনে পড়ছে, ছোটবেলায় দেখা পাল তোলা নৌকার কথা! আচ্ছা, নৌকাগুলো কি এখন আছে আমাদের দেশে! ? আমি চোখ বন্ধ করে চলে যাচ্ছি, গেরুয়া রঙের ওপর নানা রঙের ছোট কাপড়ের তালি দেওয়া, পাল তোলা নৌকার কাছে!!

বর্ষা মানেই মেঘ, বৃষ্টি, নতুন প্রাণ, জেগে ওঠার গান। ঐশ্বর্যের ঋতু, অকৃপণ ঋতু, সমৃদ্ধির ঋতু মানেই হলো বর্ষা। সে সকল প্রকার জরাজীর্ণ, পাপ-তাপ আর পুরাতনকে ধুয়ে মুছে পবিত্র করে তোলে। সে যতটা না কাঁদে, তার চেয়ে বেশি হাসে। প্রকৃতিতে যৌবনের হাওয়া তোলা এ ঋতু আমার ভীষণ প্রিয়। এর সাথে বাঙালির জীবন ও এক সাথে গাঁথা। চারদিকে সবুজের মনোলোভা রূপ আমাদের মোহিত না করে পারেনা। সিক্ত হৃদয় উদ্বেলিত হয় এই সময়ে। বর্ষায় ঝরছে কোনো এক আনখোরা লেখকের কলম! অবিরাম…অবিরাম ধারায় চলছে। হয়তো চলবে!

আকাশের ওপর ভাসমান শূন্যতা! মেঘের ওপর মেঘ, তারও ওপর আকাশ!! জীবন অনিশ্চিত দূর…

“এ ভরা বাদর মাহ ভাদর শূন্য মন্দির মোর”।

বৃষ্টি মুখর দিন। গাছে গাছে ফুল আর বৃষ্টির পরশ। বৃষ্টির পানিতে নৃত্য করে পাখিরা। টাপুরটুপুর বৃষ্টিতে ঝাপসা হয় গাছপালাগুলো। ফুল ফুটে, গন্ধ ছড়ায়, ছড়াবেও !! মেঘের পরে মেঘ জমবেই… আমি চেয়ে চেয়ে দেখি। এই তো বেশ আছি! কত সুন্দর এই পৃথিবী। এই আকাশ, এই বাতাস, এই বৃষ্টি, এই স্নিগ্ধতা…!

সভ্যতার সাথে তাল মিলিয়ে আমরা হচ্ছি আধুনিক। কিন্তু বৃষ্টি, বর্ষার রূপ অাদিগন্ত একই..। সেই কালো মেঘে ঢেকে থাকা, অঝোর ধারায় বর্ষণ , সবই তো স্বর্গীয় বৈশিষ্ট্য। প্রকৃতির অপরূপ রাণী বলে কথা!!

বর্ষা মানেই আবেগ, অনুভূতির মাখামাখির সময়। একে নিয়ে মাতোয়ারা হননি এমন কবি সাহিত্যিক পাওয়া যায়না। শুধু কবি সাহিত্যিক নন, সাধারণ মানুষও এর বন্দনায় গা ভাসিয়েছেন। কালিদাস থেকে রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ বা নির্মলেন্দু গুণ, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে হুমায়ুন আহমেদ… কেউ বর্ষাকে এড়িয়ে যেতে পারেননি।

আমরাও প্রতিনিয়ত জীবনের এই ভাঙাগড়ার খেলার মধ্যে স্বপ্নের জাল বুনি। এই মাটির বর্ষণমুখর সন্ধ্যা, আকাশের পুঞ্জপুঞ্জ মেঘ, ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ধারাপাত বড় ভালো লাগে আমার। মনে হয়, আমি যেন সব কিছুতেই মিশে আছি। এই বিশ্বপ্রকৃতির বিশাল আয়োজনে আমি ও এক অতিথি যেন। আমার এ আবোলতাবোল কথন হয়তো কারো ভালো নাও লাগতে পারে……. …!

মাটি, গাছপালা, পশু-পাখি, নদীনালা সর্বোপরি প্রকৃতিকে আমাদেরই ভালোবাসতে হবে। প্রকৃতিকে ভালোবাসলে, প্রকৃতির সাথে আমাদেরও সৌন্দর্য ও ভালোবাসার মেলবন্ধন তৈরি হবে। বর্ষা আমাদের জীবনের অশান্তিগুলো ধুয়ে নিয়ে গিয়ে শান্তির বার্তাবাহক হোক। বর্ষাধারায় শুদ্ধ হই আমরা সকলে। জীবন আদিগন্ত প্রাণ পাক এ বর্ষার সমারোহে। দিনগুলো সোনামোড়া আবহে রূপ পাক স্বরূপে।।

লেখকঃ সুলতানা কাজী
সহকারী শিক্ষক (বাংলা)
অংকুর সোসাইটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

Related Posts