চট্টগ্রাম শিক্ষা-ক্যাম্পাস

বেসরকারী মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমুহে  ১১ জুন থেকে তিন দিনের ধর্মঘট 

 

 

মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে আগামী  রবিবার (১১ জুন থেকে ১৩ জুন) থেকে সারাদেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমুহে  তিনদিনের ধর্মঘট শুরু হচ্ছে।
দেশের সর্ববৃহৎ ও শতবর্ষীয় ঐতিহ্যবাহী পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) এ ধর্মঘটের ডাক দেয়।
গত ৬ জুন ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে   বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)’র নেতৃবৃন্দ সাংবাদিক সম্মেলনে বেসরকারি  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিন দিনের ধর্মঘট এর পাশাপাশি  বেশ কিছু কর্মসূচি ঘোষণা করেন।  প্রসঙ্গত, ২০ মার্চ ২০২৩ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে স্মরণকালের সবচেয়ে বৃহৎ শিক্ষক সমাবেশে আসন্ন বাজেটে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের ঘোষণা সহ পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখার জন্য আহবান জানানো হয়েছিল। পরিতাপের বিষয় বাজেটে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের ঘোষণাসহ প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়নি।বরং বিগত বাজেটের চেয়ে কম বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পাসের আগেই জাতীয়করণের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না দিলে আগামী ১১ জুলাই থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষক কর্মচারীদের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনেরও  ঘোষণা দেন ।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের  বেসরকারী এমপিওভুক্ত  শিক্ষা  প্রতিষ্ঠানসমুহে র্মঘট সফল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার সংগ্রাম কমিটির সভা  শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর ৪০০ আন্দরকিল্লাস্হ শিক্ষক ভবনে অনুস্ঠিত হয়। সংগ্রাম কমিটির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমদ এর সভাপতিত্বে ও আহবায়ক শিমুল কান্তি মহাজন এর সঞ্চালনায়  নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)  কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রণজিৎ কুমার নাথ, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার সভাপতি  বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ লকিতুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অঞ্চল চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি নুরুল হক ছিদ্দিকী,সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কানুনগো, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি ওসমান গনি ও সাধারণ সম্পাদক তাপস চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. জাকের হোসেন, সংগ্রাম কমিটির সদস্য আবুল কালাম, সনজীব কুসুম চৌধুরী, মনিকা সেন,শ্যামল দে,কাঞ্চন বিশ্বাস, মো. এহসান মো. আলী প্রমুখ। সভায়,নেতৃবৃন্দ   সারাদেশের ন্যায়  বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের জেলা,উপজেলা ও থানার  মাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্মঘট সফল করতে  বিদ্যালয় ইউনিটকে  উদাত্ত আহ্বান জানান।
আগামী রবিবার থেকে ( ১১ থেকে ১৩ জুন) তিনদিনের  ধর্মঘট এর পাশাপাশি  মঙ্গলবার (১৩ জুন ) বেলা তিনটায় নগরীর জামালখানস্হ  চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সম্মুখে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজনের  সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
শিক্ষক নেতৃবৃন্দ  বলেন, দেশের সিংহভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীর দ্বারা। কিন্তু পরিতাপের বিষয় আমরা এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মাত্র এক হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া, ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পাই। অথচ একই কারিকুলামের অধীন একই সিলেবাস, একই অ্যাকাডেমিক সময়সূচি, একইভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে নিয়োজিত থেকেও আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে পাহাড়সম বৈষম্য।
এছাড়া বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বেতন স্কেল সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বেতন স্কেলের একধাপ নিচে প্রদান করা হয়। তাছাড়া সহকারী প্রধান শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেল প্রদান না করার ফলে উচ্চতর স্কেলপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষকদের বেতন স্কেল ও সহকারী প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল সমান। সে কারণে সহকারী প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে।
বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরে যাওয়ার পর অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ  বলেন, অনেক শিক্ষক/কর্মচারী টাকা পাওয়ার আগেই অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করছেন। তাছাড়া কয়েক বছর যাবৎ কোনও প্রকার সুবিধা না দিয়েই অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্ট খাতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তন করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত অমানবিক। তাই অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তনের প্রতিবাদে আমরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলসহ অবসর সুবিধা বোর্ড এবং কল্যাণ ট্রাস্ট অফিস ঘেরাও করতে বাধ্য হয়েছিলাম। পরিতাপের বিষয় আজ পর্যন্ত কোনও প্রতিকার হয়নি।
নেতৃবৃন্দ  বলেন, এক ধাপে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করতে হবে সেটা আমরা চাই না। আমরা চাই জাতীয়করণের ঘোষণা। এরপর ধাপে ধাপে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করলেও চলবে।
বাজেটে শিক্ষায় পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি (ইউনেস্কো) ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইও) অনুমোদিত ১৪৬টি সুপারিশ সম্বলিত শিক্ষকদের মর্যাদা বিষয়ক সনদের সুপারিশ অনুযায়ী, শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ অথবা জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবুও ২০২২-২৩ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১১.৯২ শতাংশ অথবা জিডিপির ১.৮৩ শতাংশ। অথচ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরাদ্দ কমিয়ে জাতীয় বাজেটের ১১.৫৭ শতাংশ অথবা জিডিপির ১.৭৬ শতাংশ করা হয়েছে। তাই ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ জাতি আজ চরমভাবে ক্ষুব্ধ।
বৈষম্য দূরীকরণে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের বিকল্প নেই বলে নেতৃবৃন্দ মত ব্যক্ত করেন।

 

Related Posts