বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ‘হামুন’ ঘূর্ণিঝড় উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। আবহাওয়া অধিদফতর চট্টগ্রাম ও পায়রা বন্দরকে ৭ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলেছে। এ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসের আঘাতে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রস্তুতি নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।
আজ ২৪ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রাম নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোতে বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে নেয়ার জন্য অভিযান পরিচালনা করা হয়। সকাল থেকেই আকবরশাহ এলাকার বিজয় নগর ও ঝিল ১,২,৩, বেলতলীঘোনা, টাংকির পাহাড়, মতিঝর্ণা, ষোলশহর ও পোড়াকলোনী এর ঝুকিঁপূর্ণ পাহাড়গুলোতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১’শ পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়। একই সাথে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত লোকজনদেরকে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে সরিয়ে যেতে দফায় দফায় মাইকিং করা হয়েছে।
কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) উমর ফারুক বলেন, সকাল থেকেই চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মানুষের জানমাল রক্ষার্থে জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের নির্দেশনায় নগরীর ৬ জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নেতৃত্বে মহানগরে ৬টি সার্কেলের মাধ্যমে ভাগ করে পাহাড় রক্ষায় ও মানুষের জানমাল রক্ষায় জেলা প্রশাসনের কয়েকটি টিম কাজ করছে। মাইকিং থেকে শুরু করে মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরে যেতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে ।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, পাহাড়ে যাতে মানুষের আর প্রাণ না দিতে হয় সে জন্যে কাজ করছি। মাইকিং থেকে শুরু করে সকলকে সচেতন করার লক্ষে জেলা প্রশাসনের টিম কাজ করছে। আজকেও ঝুকিপূর্ণ পাহাড়গুলো থেকে ১’শ পরিবারকে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে।তাদের জন্যে শুকনো খাবার থেকে শুরু করে প্রতিবেলার খাবারের ব্যবস্থা করেছি। চট্টগ্রামের সকল পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত পরিবারকে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার জন্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গত কয়েকদিন আগে বেলতলীঘোনায় পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বসবাসরতদের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। যারা পাহাড় কাটার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা ও নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। পাহাড় রক্ষায় জেলা প্রশাসন চট্টগ্রাম জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করছে। ব্যক্তি বা সরকারী যার মালিকানায় পাহাড় থাকুক না যেন, যারা পাহাড় কাটার সাথে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা উপজেলা পর্যায়ে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও নগদ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের নম্বরে (+৮৮০ ২৩৩৩৩৫৭৫৪৫) যোগাযোগ করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।###












