বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ধানের শীষের বিজয়ের মাধ্যমেই ফটিকছড়ি ভালো থাকবে, ভালো থাকবে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন – সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জনগণের ভোটে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই শেষ হবে আগামী ১২ তারিখ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী একথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি দীর্ঘ ১৭ – ১৮ বছর ধরে গুম, হত্যা, মামলা, কারাবরণ ও নানা নির্যাতনের মধ্য দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, দলের নেতাকর্মীরা ব্যবসা – চাকরি হারিয়েছেন, পুলিশের হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে, চিকিৎসার অভাবে জেলখানায় প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে – তবুও তারা সাহস হারাননি।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সতের বছর বিএনপির নেতাকর্মীরা গুম,খুন, মামলা, হামলা, ব্যবসা হারানো, চাকরি হারানো – শত হাজারো নির্যাতনে খাঁটি সোনায় পরিণত হয়েছে। বনে জঙ্গলে রাত কেটেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে সরওয়ার আলমগীর আমাদের সাথে থেকে রাজপথে লড়াই করেছেন। এ দেশের একমাত্র গণতন্ত্রের ধারক-বাহক বিএনপি। একটি দল যারা কোনদিন গণতন্ত্রে আপোষ করেনি। সেই দলটি হচ্ছে বিএনপি।বাংলাদেশের মানুষ শান্তি চায়, বাংলাদেশের মানুষ সহনশীল রাজনীতি চায়।
তিনি বলেন, এই আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি। ১২ তারিখের ভোটের মধ্য দিয়েই ইনশাআল্লাহ এই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটবে।
গণতন্ত্রের প্রশ্নে বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছিলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে।
কোটাবিরোধী আন্দোলন, এক – এগারো এবং পরবর্তী সময়ের আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, শুরু থেকে আজ পর্যন্ত গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস করেনি বিএনপি।
তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে আমীর খসরু বলেন, আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তিনি বলেছেন, আমাদের পরিকল্পনা আছে – সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ১২ তারিখে বিশাল ভোটে ধানের শীষকে জয়ী করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো বিদেশি শক্তির হাতে বাংলাদেশ পরিচালিত হবে না। রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনীতিকেও গণতান্ত্রিক করতে হবে। ফটিকছড়ির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার সম্পদ ও সুযোগ কাজে লাগিয়ে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবে।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর বলেন, তরুণ সমাজকে শিক্ষিত করে শিল্পায়নের মাধ্যমে ফটিকছড়ির অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হবে। মিরসরাইয়ের মতো শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী নির্বাচন বানচালের
ষড়যন্ত্র করছে কিন্তু দেশের মানুষ তাদের ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না।
তিনি বলেন, ফটিকছড়ি তথা সারাদেশে ধানের শীষের জোয়ার এসেছে। এ জোয়ার কেউ ঠেকাতে পারবে না। ধানের শীষের বিজয় অবশ্যাম্ভাবি।
সরওয়ার আলমগীর বলেন, আমাদের বিভিন্নভাবে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে, আমাদের বিভিন্নভাবে লাইনচ্যুত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থেকে এই গুপ্ত বাহিনীর সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেবো, ইনশাল্লাহ।
ফটিকছড়ি সরকারি কলেজ মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব ছালাউদ্দীন এর সভাপতিত্বে ও নাজিম উদ্দীন শাহীন’র সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক এমপি নুরী আরা ছাফা, কেন্দ্রীয় বিএনপি সদস্য, সাবেক বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মির্জা মো. আকবর, মোবারক হোসেন কাঞ্চন, আহমেদ হোসেন তালুকদার, মিহির চক্রবতী, সৈয়দ ওমর ফারুক মাইজভান্ডারি, জহির আজম চৌধুরী, নুরুল হুদা চৌধুরী, মো. এজহার, আবু জাফর মাহমুদ, আবুল কালাম আজাদ, মুনসুর আলম চৌধুরী, শহিদুল আজম চেয়ারম্যান, জাহাঙ্গীর আলম চেয়ারম্যান, সরোয়ার হোসেন, নাছির উদ্দীন, সিরাজদৌল্লা চৌধুরী, দুলাল, আবু মেম্বার, আজম খান, একেএম আজম, হাসানুল কবির, মোজাহারুল ইকবাল লাভলু প্রমূখ।












