অপরাধ চট্টগ্রাম

রাউজানে প্রেমিকাকে খুন করে প্রেমিকের আত্মহত্যা !

 

প্রেমিকা অন্নেষা চৌধুরীর (২০) বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়েছে। বিয়ে হবে ১০ মার্চ। কিন্তু এই বিয়ে মেনে নিতে পারছিলেন না প্রেমিক জয় বড়ুয়া (২৪)। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় একটি পরিত্যক্ত ঘরে প্রেমিকাকে ডেকে নিয়ে রাগে ক্ষোভে তিনি ছুরি চালান অন্নেষার গলায়। মৃত্যু নিশ্চিত করার পর একই কক্ষে নিজে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। ঘটনাটি ঘটেছে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের মহামুনি গ্রামে।
এলাকার জনসাধারণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খুন হওয়া অন্নেষা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মহামুনি গ্রামের রণজিৎ চৌধুরী বাবলুর কন্যা। আর জয় পার্শ্ববর্তী ৮ নং ওয়ার্ডের নিলেন্দু বড়ুয়ার পুত্র।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জয় এসএসসি পাস করে চাকরির সন্ধানে ছিলেন। বেকার থাকায় বাড়ির সামনে থাকা তার বাবার চায়ের দোকানে সময় দিতেন। অন্নেষা নোয়াপাড়া কলেজে স্নাতক প্রথম বর্ষে পড়তেন। তবে এক বছর আগে কলেজে যাওয়া ছেড়ে দেন। ওই সময় থেকে পাড়ায় টিউশনি করতেন। রোববার সন্ধ্যায় টিউশনি শেষ করে অন্নেষা বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় জয় তাকে ডেকে নিয়ে যান সুব্রত বড়ুয়ার ঘরে। তিনি শহরবাসী হওয়ায় তার ঘরে কেউ থাকেন না।
সন্ধ্যার পর জয় বড়ুয়ার বোন জুই বড়ুয়া জয়কে খুঁজতে বের হন। ওই সময় ওই ঘরের ভেতর গোঙানির শব্দ শুনতে পান। তিনি ব্যাপারটি জানালে স্থানীয় লোকজন ঘরে প্রবেশ করে। তারা যে কক্ষে ছিল সে কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। এরপর দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে দেখে মেঝেতে পড়ে আছে অন্নেষার নিথর দেহ। গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছেন জয়। রশি কেটে নিচে নামানোর পর দেখে জয়ের মৃত্যু হয়েছে।
জানা যায়, অন্নেষার গলায় ছুরির কাটা দাগ রয়েছে। তার লাশের পাশে ছিল ছোট একটি ছুরি।
খবর পেয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন ঘটনাস্থলে যান। খবর দেন পুলিশকে। রাত ১০টার দিকে রাউজান থানার ওসি আবদুল্লাহ আল হারুন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
ওসি আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, জয় ও অন্বেষার বাড়ি কাছাকাছি এলাকায়। যে ঘরে তাদের লাশ পাওয়া গেছে সেটি জয়ের কাকার ঘর। তার কাকার পরিবারের কেউ বাড়িতে না থাকায় সেখানে জয় রাতে ঘুমাতেন। রাতে ফিরতে দেরি হওয়ায় জয়ের পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় আশপাশের লোকজন নিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তারা অন্বেষার রক্তাক্ত লাশ এবং জয়কে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
ওসি হারুন বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে অন্বেষাকে ফাঁস দিয়ে হত্যার পর গলায় ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। পরে ফাঁসিতে ঝুলে নিজেও আত্মহত্যা করেছেন জয়। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
রাঙ্গুনিয়া-রাউজান সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ গিয়ে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Related Posts