নিজস্ব প্রতিবেদক
সীতাকুণ্ডে বেসরকারি বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের চার দিন পরেও কোনও মামলা হয়নি। কবে হবে তাও নির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না পুলিশ। সীতাকুণ্ড থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ মঙ্গলবার (৭ জুন) বিকালে বলেন, ‘মামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ডিপোর আগুনে দগ্ধ রোগীদের দেখতে আসেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগার ঘটনা ফায়ার সার্ভিস ও সিআইডি পৃথকভাবে তদন্ত করছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে মামলা হবে।’
বিএম কনটেইনার ডিপো চট্টগ্রামভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্মার্ট গ্রুপের মালিকানাধীন। সোমবার (৬ জুন) ডিপোর মালিকপক্ষ বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনাকে নাশকতা বলে দাবি করে।
ডিপোর পরিচালক আজিজুর রহমান দাবি করেন, ‘এ বিস্ফোরণ নাশকতার কারণেই হয়েছিল। তা না হলে ডিপোতে আট থেকে নয়শ’ কনটেইনার ছিল, কোনোটাই বিস্ফোরিত হয়নি। একটা কনটেইনারে কেন বিস্ফোরণ ঘটেছে। এখানে নাশকতার বিষয়টি স্পষ্ট।’
তবে পরিবেশ অধিদফতর বলছে, ডিপো কর্তৃপক্ষের মিথ্যাচারের কারণে এত বেশি হতাহত হয়েছে। কারণ, অরেঞ্জ ক্যাটাগরির ছাড়পত্র নেওয়া হলেও ডিপোতে রেড ক্যাটাগরির রাসায়নিক পদার্থ ছিল। আর এই তথ্য ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট অন্য দফতরগুলোকে জানানো হয়নি। যে কারণে আগুনের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা এত বেশি হয়েছে। অনুমতি ছাড়া রেড ক্যাটাগরির রাসায়নিক রাখায় মালামাল ছাড়পত্র বাতিল করছে পরিবেশ অধিদফতর।
পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মুফিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাসায়নিক না থাকার কথা বলে বিএম কনটেইনার ডিপো অরেঞ্জ ক্যাটাগরির ছাড়পত্র নিয়েছিল। কিন্তু রেড ক্যাটাগরির রাসায়নিক রাখায় ছাড়পত্র বাতিল করা হয়েছে।’
সীতাকুণ্ডে এ বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত ৪৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। এরমধ্যে ফায়ার ফাইটার নিহত হয়েছেন ৯ জন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৩০ জন। এরমধ্যে ১৫ জন ফায়ার সার্ভিসের এবং পুলিশের সদস্য আহত হয়েছেন ১০ জন।
সূত্র ঃ বাংলা ট্রিবিউন












