নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:
বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটে নিয়োগ দুর্নীতির টাকা রাখতে আসতেন স্বয়ং পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সব টাকাই প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর। তিনি শুধু নির্দেশ পালন করতেন। ইডির সামনে নাকি এমনই বিস্ফোরক বয়ান দিয়েছেন পার্থবাবুর ‘বান্ধবী’ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। অন্তত ইডির দাবি তাই। তদন্তকারী আধিকারিকরা বলছেন, নিয়োগ দুর্নীতির টাকা অনেক সময় আসত পার্থবাবুর এসকর্ট কারেও। এমনকী, এই ফ্ল্যাটে কারা কারা আসত, তার তালিকাও এসে গিয়েছে ইডির হাতে। খুব শীঘ্রই তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হচ্ছে বলে খবর।
দু’দফায় অভিযানে প্রায় ৫০ কোটি নগদের হদিশ তোলপাড় ফেলেছে দেশজুড়ে। ইডির হানার খবর পাওয়া মাত্র প্রশ্ন উঠছে, এবার কত? বৃহস্পতিবার ইডি আধিকারিকরা চিনার পার্কে অর্পিতার আর একটি ফ্ল্যাটে পৌঁছতেই প্রচারের সব আলো চলে যায় সেদিকে। একইসঙ্গে তল্লাশি চালানো হয় বেলঘরিয়ার রথতলার একটি আবাসনের ন’তলার একটি ফ্ল্যাট ও বাইপাস সংলগ্ন নয়াবাদের একটি অভিজাত আবাসনে। চিনার পার্কে ফ্ল্যাটে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ফিরে আসেন তদন্তকারীরা। গভীর রাত পর্যন্ত নয়াবাদের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চলেছে।
এসএসসি দুর্নীতির তদন্তে নেমে অর্পিতার বয়ান ইডি আধিকারিকদের কাছে এখন ‘তুরুপের তাস’। পার্থবাবুর বান্ধবী তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, এই ফ্ল্যাটটি কেনাই হয়েছিল টাকা গচ্ছিত রাখার জন্য। ২০১৬ সালের শেষ দিক থেকে এখানে টাকা রাখা শুরু। বিভিন্ন সময়ে টাকা এসেছে, আবার তা বেরিয়েও গিয়েছে। তবে টাকা আনা ও নিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট লোক ছিল। এই ‘বিশ্বাসভাজনদের’ মাথায় রয়েছেন এক প্রোমোটার ও বেহালার জনৈক নেতা। তাঁরাই মূলত চাকরি প্রার্থীদের দেওয়া টাকা কালেক্ট করে রাখতেন। এরপর সময়মতো সেই টাকা পৌঁছে যেত পার্থবাবুর ফ্ল্যাটে। সেখানে টাকা গুনতেন পার্থ ঘনিষ্ঠ ওই প্রোমোটার ও নেতা। ইডির দাবি, বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটে পার্থবাবু মাসে চারবার আসতেন বলে বয়ান দিয়েছেন অর্পিতা। যে গাড়িতে তিনি উঠতেন, সেখানেই রাখা হতো টাকা। পাহারার জন্য পার্থবাবুর নিরাপত্তায় থাকা গার্ডদের মধ্যে কেউ সঙ্গে যেতেন। ফ্ল্যাটে গাড়ি ঢোকার সময় সিসি ক্যামেরা অফ করে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। এর জন্য আবাসনের নিরাপত্তরক্ষীদের আগে থেকে নির্দেশ দিয়ে রাখতেন অর্পিতা। তিনি ইডিকে আরও জানিয়েছেন, পার্থবাবুর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিসকর্মীকেও টাকা নিয়ে আসতে দেখেছেন।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, টাকা ফ্ল্যাটে আসার পর ২ হাজার ও ৫০০ টাকার নোট আলাদা করা হতো। এই কাজটি করতেন অর্পিতা এবং পার্থবাবুর ঘনিষ্ঠরা। টাকা গোনা শেষ হলে তা আলাদা আলাদা খামে ভরা হতো। ২ হাজারের নোটের এক একটি খামে থাকত ৫০ লক্ষ টাকা। আর ৫০০ টাকার নোটের খামে থাকত ২০ লক্ষ।












