চট্টগ্রাম সংগঠন খবর

চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির (বি-ব্লক) নতুন সদস্য করা নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির (বি-ব্লক) ৯৮ জনকে নতুন সদস্য করার জন্য কার্যকরী কমিটি সম্প্রতি অনুমোদন দিয়েছেন। কিন্তু কার্যকরী কমিটির বড় একটি অংশের অভিযোগ, নিয়ম বর্হিভূতভাবে গঠনতন্ত্র না মেনে নতুন সদস্য করা হচ্ছে। যা ক্ষমতার অপব্যবহার ও সেচ্ছ্বাচারিতার শামিল।

এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে চলছে বাহাস ও উত্তেজনা। যে কোন সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন সমিতির সদস্যরা।

৯৮ জনকে নতুন সদস্য করার পক্ষে রয়েছেন সংগঠনের সভাপতি এডভোকেট জিয়া উদ্দিন আহমদ। অপর পক্ষে সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইসমাঈল। দুই জনের মধ্যে এক সময় মধুর সম্পর্ক থাকলেও এখন সাপে-নেউলের সম্পর্ক।

চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতি (বি-ব্লক) এর বিশেষ সাধারণ সভায় ৯৮ জনকে নতুন সদস্য করার জন্য সমিতির কার্যকরী কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন। কিন্তু কার্যকরী কমিটির একটি বড় অংশ এটাকে বেআইনি দাবি করছেন। তাদের দাবি, এতে গঠনতন্ত্র মানা হয়নি।

সমিতির সদস্য জহির উদ্দিন বাবরের অভিযোগ, সভাপতি সেচ্ছাচারিতা করছেন। আগামী ১০ ডিসেম্বর সমিতি’র এজিএম হওয়ার কথা রয়েছে। সাধারণ সদস্যরা সম্মিলিতভাবে এজিএম বয়কট করবে। যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য সভাপতি দায়ি থাকবেন।

এদিকে সমিতির সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে সাধারণ সদস্যরা পুলিশ কমিশনারের কাছে সভাপতির ‘ গঠনতন্ত্র বিরোধী’ কর্মকান্ডে উদ্বেগ জানিয়ে আগামী ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এজিএম বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন।

এলাকাবাসীর পক্ষে সমিতিতে দেয়া জসিম উদ্দিনের আবেদনে বলা হয়, ৩০ নভেম্বর একটি কথিত নতুন বাতিলযোগ্য সদস্য তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। যাতে সমাজ সেবা অধিদপ্তর ও সিডিএ’র নিয়ম মানা হয়নি। চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতি (বি-ব্লক) সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজ সেবার রেজি:কৃত একটি সংগঠন এবং সিডিএ’র অধীনস্থ।

লিখিত আবেদনে তিনি বলেন, সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কুমানসে, অসৎ উদ্দেশ্য অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে করা সদস্য তালিকা আইন বিধি অনুযায়ী বাতিলযোগ্য। ১৭ অক্টোবর নোটিশে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ভোটার হালনাগাদ ও বকেয়া চাঁদা পরিশোধের কথা উল্লেখ থাকলেও নতুন সদস্য করার কোন আলোকপাত করা হয়নি। যে ফরমে নতুন সদস্যদের সদস্য করার আবেদন গ্রহন করেছে তাও গঠনতন্ত্র বর্হিভূত। অনুমোদিত ফরম ব্যবহার করা হয়নি। তিনি আরো উল্লেখ করেন, সিডিএ’র নিয়ম অনুযায়ী হোল্ডিং টেক্স আদায়কারী প্লট/বাড়ীর মালিক ব্যতিত অন্য কেউ সদস্য হতে পারবে না উল্লেখ থাকলেও তা মানা হয়নি। সর্বপরি নতুন সদস্য তালিকাটি বাতিল যোগ্য বলে তিনি দাবী করেন।

এ বিষয়ে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা কলাণ সমিতির সভাপতি এডভোকেট জিয়া উদ্দিন আহমদ বলেন, সমিতির নিয়ম মেনেই সকল কাজ পরিচালনা করা হয়। নতুন সদস্যও যথাযথ নিয়ম মেনে করা হয়েছে। সভায় কেউ বিরোধীতা করেনি।

সিডিএ’র ডিড এবং গঠনতন্ত্রের ফরম বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তো দীর্ঘদিন সাধারণ সম্পাদক ছিলাম এখন সভাপতি। এজেন্ডা এনেই সভায় আলোচনা হয়েছে। আর আমি যে নিয়মের মধ্যে সদস্য হয়েছিলাম ঠিক সেই নিয়মানুসারে নতুনদের সদস্য করা হয়েছি।

এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো: ইসমাঈল সাংবাদিকদের বলেন, সভাপতি ইচ্ছে মতো সমিতি চালাচ্ছেন। সমাজ সেবা অধিদপ্তরের অনুমোদিত গঠনতন্ত্র বাদ দিয়ে নিজের বানানো গঠনতন্ত্র দিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে যা সম্পূর্ণ অবৈধ। অনুমোদিত গঠনতন্ত্রে ২১ জনের কার্যকরী কমিটি থাকার কথা থাকলেও তিনি ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি নিয়ে সমিতি পরিচালনা করছেন।

তিনি আরো বলেন, প্রতি প্লট বা বাড়ীর বিপরীতে একজন ভোটার থাকার কথা থাকলেও তিনি ওয়ারিশ হিসাব করে একাধিক সদস্য বানানোর পয়তারা হিসেবে ৯৮ জনকে সদস্য করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। যা সম্পূর্ণ অবৈধ।

Related Posts