এক মাস পূর্ণ হলো আদানি গোষ্ঠীর ‘জালিয়াতি ও কারচুপি’–সংক্রান্ত হিনডেনবার্গ রিসার্চের রিপোর্টের বয়স। সেই সঙ্গে মাস পূর্তি হলো একদা পৃথিবীর দ্বিতীয় ধনী শিল্পোদ্যোগীর অবিরাম সাম্রাজ্যধসের। গত ২৪ জানুয়ারি হিনডেনবার্গের রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর আদানি গোষ্ঠীর সব কটি শেয়ারের টানা দরপতনের ফলে ওই গোষ্ঠীর মোট বাজার মূলধনের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ২০ হাজার ৬৩২ কোটি রুপিতে। অথচ রিপোর্ট প্রকাশের আগে আদানি গোষ্ঠীর তালিকাভুক্ত ১০টি কোম্পানির মোট বাজার মূলধন ছিল ১৯ লাখ ১৯ হাজার ৮৮৮ কোটি রুপি। অর্থাৎ, ২৪ জানুয়ারি থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি শেয়ার বাজার বন্ধ হওয়ার সময় পর্যন্ত আদানি গোষ্ঠীর ক্ষতির পরিমাণ ১১ লাখ ৯৯ হাজার ২৫৬ কোটি রুপি!
EN
By using this site, you agree to our Privacy Policy.
OK
ভারত
হিনডেনবার্গ রিপোর্ট: এক মাসেই আদানির সম্পদ কমল ১২ লাখ কোটি রুপি
প্রতিনিধি
নয়াদিল্লি
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৬: ০০

আদানি সাম্রাজ্যের কর্নধার গৌতম আদানিছবি: এএফপি
এক মাস পূর্ণ হলো আদানি গোষ্ঠীর ‘জালিয়াতি ও কারচুপি’–সংক্রান্ত হিনডেনবার্গ রিসার্চের রিপোর্টের বয়স। সেই সঙ্গে মাস পূর্তি হলো একদা পৃথিবীর দ্বিতীয় ধনী শিল্পোদ্যোগীর অবিরাম সাম্রাজ্যধসের। গত ২৪ জানুয়ারি হিনডেনবার্গের রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর আদানি গোষ্ঠীর সব কটি শেয়ারের টানা দরপতনের ফলে ওই গোষ্ঠীর মোট বাজার মূলধনের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ২০ হাজার ৬৩২ কোটি রুপিতে। অথচ রিপোর্ট প্রকাশের আগে আদানি গোষ্ঠীর তালিকাভুক্ত ১০টি কোম্পানির মোট বাজার মূলধন ছিল ১৯ লাখ ১৯ হাজার ৮৮৮ কোটি রুপি। অর্থাৎ, ২৪ জানুয়ারি থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি শেয়ার বাজার বন্ধ হওয়ার সময় পর্যন্ত আদানি গোষ্ঠীর ক্ষতির পরিমাণ ১১ লাখ ৯৯ হাজার ২৫৬ কোটি রুপি!
হিনডেনবার্গ রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার আগে ভারতের গুজরাট রাজ্যের ৬০ বছরের শিল্পপতি গৌতম আদানি ছিলেন পৃথিবীর দ্বিতীয় ধনকুবের। শেয়ারবাজারে জালিয়াতি ও কারচুপি করে সম্পদ বৃদ্ধির মারাত্মক অভিযোগ নস্যাৎ করে দিলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠতম ও স্নেহধন্য বলে পরিচিত এই শিল্পপতি বাজারের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ। ২০ হাজার কোটি রুপির ‘এফপিও’ বাতিল করে দিয়েও তিনি সেই আস্থা ফেরাতে পারেননি। এক মাসের মধ্যে আজ তিনি সেরা ধনকুবেরদের তালিকার ২৯তম স্থানে নেমে গিয়েছেন। তাঁর মোট সম্পদমূল্য কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২২০ কোটি মার্কিন ডলার। যাঁকে টপকে হু হু করে বাড়িয়ে তুলেছিলেন সংস্থার সম্পদ, সেই মুকেশ আম্বানির সম্পদের পরিমাণ এ মুহূর্তে তাঁর প্রায় দ্বিগুণ—৮ হাজার ৩৩০ কোটি ডলার।
আদানি গোষ্ঠীর ১০ সংস্থার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আদানি গ্রিন এনার্জির। শেয়ারের বাজারমূল্য কমে গেছে ৮৪ শতাংশ। দরপতনের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে আদানি ট্রান্সমিশন ও আদানি টোটাল গ্যাসের শেয়ার। দরপতন যথাক্রমে ৮৩ ও ৮১ শতাংশ। গোষ্ঠীর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত সংস্থা বলে পরিচিত আদানি এন্টারপ্রাইজের শেয়ারমূল্য কমেছে ৬৭ শতাংশ। এ সংস্থার ছাড়া ২০ হাজার কোটি রুপির ‘এফপিও’ পুরো বিক্রি হওয়া সত্ত্বেও ‘গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে’ আদানি গোষ্ঠী তা বাতিল করে দেয়। গৌতম আদানি ঘোষণা করেছিলেন, আস্থা যাতে না হারায় সে জন্য গ্রাহকদের সবার টাকা ফেরত দেওয়া হবে। বাজারের আস্থা অর্জনে গত এক মাসে এই গোষ্ঠী চেষ্টায় ত্রুটি রাখেনি। কিন্তু দরপতন তাঁর সাম্রাজ্যে ধস নামিয়েই চলেছে।
আদানিকে কেন্দ্র করে এক মাস ধরে ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতিও উত্তাল। সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম অর্ধের প্রতিটি দিন বিরোধীরা এ নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। সংসদও অচল থেকেছে। বিরোধীদের তোলা তদন্তের দাবিও সরকার মেনে নেয়নি। গৌতম আদানির উল্কাসম বাণিজ্যিক উত্থানের একমাত্র কারণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাহচর্যকে দায়ী করেছেন বিভিন্ন বিরোধী নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশকে প্রভাবিত করার মারাত্মক অভিযোগও সংসদে আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, পছন্দের শিল্পপতির জন্য প্রধানমন্ত্রী দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে ব্যবহার করেছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী সংসদে একটি অভিযোগেরও জবাব দেননি। সংসদের বাইরেও আদানি প্রসঙ্গে একবারের জন্যও মুখ খোলেননি। এ পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দাখিল হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় জানিয়েছেন, তদন্ত সম্পর্কে শিগগিরই তিনি রায় জানাবেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, তাঁর নির্দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত জীবন বীমা করপোরেশন (এলআইসি) ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (এসবিআই) আদানি গোষ্ঠীতে বিনিয়োগ করেছে। অভিযোগের সত্যাসত্য গত এক মাসে প্রমাণিত হয়নি। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে শেয়ারের দরপতনের ফলে এলআইসির ‘লোকসান’ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি রুপি। ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আদানি গোষ্ঠীর ৭টি সংস্থায় এলআইসির মোট শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৮৩ হাজার কোটি রুপি। ২৩ ফেব্রুয়ারিতে তা কমে হয়েছে ৩৩ হাজার ২৪২ কোটি।












