নিজস্ব প্রতিবেদক
সিআরবি- সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং, বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সদর দপ্তর। বৃটিশ আমল থেকেই এটি সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখানে রয়েছে শত শত বছরের পুরনো গাছ। যেগুলো বিশাল আকার ধারণ করেছে। ঐতিহাসিক এই এলাকাটি তার শীতল ছায়া, ঘন গাছগাছালি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে প্রতিদিন শত শত মানুষের পদচারণায় মুখরিত থাকে। সকাল থেকে রাত অবধি লোকজন থাকেন সেখানে। কিন্তু নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল না। এ কারণে ময়লা আবর্জনা জমতে থাকে।
সিআরবি এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব রাখতে ব্যতিক্রমি উদ্যোগ নেন
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীন। তাঁর উদ্যোগে শনিবার সকালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) শেখ সাকিল উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে এই কার্যক্রমে অংশ নেন রেলওয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা।
এ সময় সুবক্তগীন বলেন, নেতৃত্ব মানে শুধু অফিস কক্ষে বসে দিকনির্দেশনা দেওয়া নয়, নেতৃত্বের আসল শক্তি হলো সামনে থেকে উদাহরণ স্থাপন করা। আমরা চাই রেলওয়ের প্রতিটি কর্মচারী সিআরবিকে নিজেদের বাড়ির উঠোনের মতো ভালোবাসুক। আমি ঝাড়ু হাতে তুলে নিয়েছি যেন সবাই বুঝে, এটা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।
সরেজমিন পরিদর্শন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে সিআরবি চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় এক আলোচনা সভা।
আলোচনা সভায় বক্তারা সিআরবি এলাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা, আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, বৃক্ষ সংরক্ষণ এবং সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তারা বলেন, সিআরবি শুধু রেলওয়ের নয়, এটি চট্টগ্রামের প্রাণ ও ঐতিহ্যের অংশ। তাই এখানকার পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন, প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিঞা, প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ইবনে সফি আব্দুল আহাদ, আরএনবির চিফ কমান্ড্যান্ট মো. আশাবুল ইসলাম, বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান, উপপরিচালক (জনসংযোগ) ফেরদৌস আহমেদ, ডিভিশনাল অফিসার সিআরবি তাহামিনা আক্তার, বিভাগীয় প্রকৌশলী এস রিয়াসাদ ইসলাম, রেলওয়ে কন্ট্রাকটরস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক শফিকুর রহমান স্বপন, সদস্য সচিব মো. শাহ আলম, রেলওয়ে শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক এম আর মঞ্জু, সেলিম পাটোয়ারী, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।
সভায় সিআরবি এলাকার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, এটি শুধু একটি অফিস এলাকা নয়, বরং চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত নিদর্শন। বক্তারা বলেন, সিআরবি চট্টগ্রামের হৃদয়। একে সুরক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।
তারা আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত চালিয়ে যেতে হবে। গাছপালা রক্ষা, সৌন্দর্যবর্ধন, আবর্জনা ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি, এখানে আসা দর্শনার্থীদের মাঝেও সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
অভিযান শেষে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে খিচুড়ি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।












