চট্টগ্রাম ধর্ম

সৈয়দ আমিনুল হক শাহ্ ফরহাদাবাদীর স্মরণে

পারশেদ বিন আনোয়ার

উপমহাদেশের অন্যতম আধ্যাত্মিক জগতের প্রাণ কেন্দ্র মাইজভান্ডার দরবার শরীফের মহান প্রাণ পুরুষ হুজুর গাউসুল আযম মাইজভান্ডারী হযরত শাহ্ ছুফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ কেবলার অন্যতম খলিফা গাউছে জামান মুফতিয়ে আযম অন্যতম কলম সম্রাট হযরত আল্লামা সৈয়দ আমিনুল হক শাহ্ ফরহাদাবাদী পবিত্র বংশ নুর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশ। যাহা ক্রমান্বয়ে সৈয়দ নুর কাজী বংশ হিসাবে সু-প্রসিদ্ধ বংশীয় শাজবা বিস্তারিত তার মহান পবিত্র জীবনী সমূহে আছে। তিনি ১৮৬৬ খ্রীষ্টাব্দে তৎকালীন সু-পরিচিত আলেম ও মিলাদ শরীফের নাজমে দিল কুশা –ফী মিলাদে মুস্তাফা নামক সু-প্রসিদ্ধ কিতাবের লিখক আল্লামা সৈয়দ আবদুল করিম (রাহঃ) এর পবিত্র সংসারে সৈয়দা নাছিমা খাতুনের ওরষে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার থানার অর্ন্তগত পশ্চিম ফরহাদাবাদ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের কলম সম্রাট আলা হযরত গাউসুল আযম মাইজভান্ডার দরবার শরীফ হতে খিতাব প্রাপ্ত শায়কুল ইসলাম আল্লামা ফরহাদাবাদী (কঃছিঃআঃ) প্রকাশ সৈয়দ আমিনুল হক ফরহাদাবাদী প্রকাশ বড় মৌলানা হুজুর সু-চিন্তিত আদর্শিক সমাজ ব্যবস্থা ইসলামীক জ্ঞান আহরণের জন্য ইসলাম জাগ্রত এর জন্য ইসলাম ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের জন্য উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন ইমামুল আওলীয়া গাউছুল আযম মাইজভান্ডারী (কঃছিঃআঃ) এর বেলায়তি শক্তির মাধ্যমে। ব্রিটিশ শাসন আমলে প্রতিষ্টিত চট্টগ্রাম সর্ব প্রথম ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র মোহছেনিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন।তখন সর্বোচ্চ কৃতিত্বের সাথে পাশ করে উস্তাদদের পক্ষ হতে‘‘ মুফতী আমিনুল হক’’ ওপাধি গ্রহণে ধন্য হন। চট্টগ্রামের তৎকালীন মোহছেনিয়া মাদ্রাসা বর্তমানে মুহসিন কলেজ সংলগ্ন হযরত মিসকিন শাহ্ (রহঃ)ও তৎসময়ের জীবিত মজ্জুব অলি আল্লাহ হযরত কম্বলি শাহ্ এর দোয়া লাভে ধন্য হন। এর-পর থেকে পবিত্র কুর-আনের নির্দেশ ‘‘ওয়া আল্লামাহ মিন লা-দুন্না ইলমান’’। যাকে শরীয়ত ও ত্বরীকতের ভাষায় লাদুন্নী ও খিজিরী ইলম যা আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান বলে। এ জ্ঞানের ভান্ডার হয়ে সকল বিষয়ে অসীম পান্ডিত্য জ্ঞান অর্জন করেন এবং যুগের সম্মানিত আলা হযরত মুফতীয়ে আযম শায়কুল ইসলাম ইমামুল মুনাজেরীন ইত্যাদি গুণান্বিত অধিকারী হিসাবে যুগশ্রেষ্ঠ শরিয়তের আলেম উলামা ও মুফতীগণ তাকে এসব উপাধিতে ভূষিত করেন। আল্লামা আমিনুল হক শাহ্ ফরহাদাবাদী শরীয়তের পরিপন্থি কোন ত্বরীকা অনুস্মরণ করেন নাই বেলায়তে মুকাইয়াদা যুগের হুজুর ইমামুল আউলিয়া গাউসুল আযম সৈযদ আবদুল কাদের জিলানী (কঃছিঃআঃ) এর পর হুজুর ইমামুল আউলিয়া গাউছুল আযম সৈয়দ আহম্মদ উল্লাহ্ মাইজভান্ডারী যে বেলায়তের মূতলাকা যুগের গাউছুল আযম তা আজ দুইশত বৎসর যাবৎ অন্তর চক্ষুধারী বিশ্বের সর্বজন আল্লামা মুহাদ্দেছ মুফাচ্ছের মুফতীগণ সহ সকল শ্রেণীর ত্বরীক্কত পন্থির কাছে স্বীকৃত। গাউসুল আযম মাইজভান্ডারী হতে খিলাফত প্রাপ্ত এবং হুজুর সৈয়দুনা গাউসুল আযম জিলানী যেভাবে জুনাইদিয়া ত্বরীকার অনুসারী হয়ে যুগের গাউসুল আযম হিসাবে কাদেরিয়ার ত্বরীকা প্রবর্তন করে। তৎযুগের অবস্থা মতে শরীয়ত সমর্থিত ত্বরীকতের আমলে অনুমোদন প্রদান করেন। আলা হযরত ফরহাদাবাদী ফাতওয়া সমূহু পূর্ববতী মুফতী ও অলি আল্লাহগণের আমল ও অনুস্মরণে কিছু নহে। মছলকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্কায়েদ ও আমলের জন্য কলম সম্রাট আল্লামা ফরহাদাবাদী এর ফাতওয়া সমূহ অনুস্মরণ ব্যতীত আর কোন বিকল্প ছিল না। যদি কেহ বাতেল আক্কীদা তথা ইবলিশ শয়তানের আক্কীদা ও আমল হতে নিজ আক্কীদা ও আমলকে হেফাজতের ইচ্ছা পোষন করে পবিত্র কোরআন আয়াত ‘‘আত্বীউল্লাহা ও আত্বীউর রাসুলা ওয়া উলিল আমরে মিনকুম’’ অর্থাৎ তোমরা আল্লাহ রাসুল ও তোমাদের মধ্যে যারা উলিল আমর এবং ইত্বাআত ( অনুস্মরণ) কর । উক্ত আয়াাতের মর্ম মতে তিনি হলেন যুগের অন্যান্য উলিল আমর এর মত একজন প্রখ্যাত উলিল আমর। এজন্য তার খেদমতে সর্বদা অসংখ্য ছুন্নী ওলামায়ে কেরাম সহ মুফতী মুহাদ্দেছ মুফাচ্ছের ও ত্বরীক্বতের পীর মাশায়েকগণ শরীয়ত ত্বরীকতের জ্ঞান অর্জনের ও ফাতওয়ার জন্য প্রচুর ভীড় জামায়েত হতো। আল্লামা সৈয়দ আমিনুল হক শাহ ফরহাদাবাদী ইহার প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে আল্লামা বজলুল করিম মন্দাকিনী আল মাইজভান্ডারি (রাঃ) বলেন‘‘ মওলানা আমিনুল হক ফরহাদাবাদীবাসী উজ্জল করিলেন দেশ পাপের তিমির নাশি, মন শুরু কল্প তরু সর্বপূজা ধর্ম গুরু, জ্ঞানের গগনে যেন ভাসিয়ছ পূর্ণশশি, বিদ্যার সাগরে বটে,জ্ঞানের তটীনি তটে জ্ঞান দানে রত হয়ে সর্বদা রয়েছেন বসি। জ্ঞান ভিক্ষা নিতে কত নর নারী শত শত। দীক্ষা সূত্রে হয় আবদ্ধ হয় তার দাসদাসী মাইজভান্ডারী দত্তধন করছে সদা বিতরণ। যত ছাড়ে তত বাড়ে অফুরন্ত ধন। রাশি ধর্ম গুরু কর্ম নেতা, সুহৃদয় দয়াল দাতা। দর্শনে তাপিত প্রাণ আনন্দেতে যায় ভাসি। সমাজে আনিলেন শান্তি নাশি লোকের ভুল ভ্রান্তি, রচনা করিয়ে কত কথা ধর্ম গ্রন্থ রাশি । সু-প্রসিদ্ধ কাজি বংশ হয়েছিল প্রায় ধবংস। পূর্ণ জীবন দিয়াছে তিনি ইহলোকে আসি আধীন করিমহীন অনুগত অনুদিন। স্মরণ রাখিও বাবা আমি তোমায় ভালোবাসি। আল্লামা ফরহাদাবাদী ইসলাম প্রচার প্রসারের জন্য বিশুদ্ধ আরবিতে লেখা উচ্চতর আধ্যাত্নিক জ্ঞান র্চ্চার প্রতি ফলনের কারণে তার ‘‘আত তাওজিহাতুর বহিয়্যাহ এবং তোহফাতুল আখইয়ার মূল্যবান দুইটি গ্রন্থ মিশরে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব মুসলিম ভাবধারার মুল্যবান অনুষঙ্গ হিসাবে পাঠ্য সহায়ক গ্রন্থ তালিকাভুক্ত হিসাবে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। আল্লামা ফরহাদাবাদীর অন্যান্য কিতাব গুলো হল ৭টি তন্মমধ্যে শাওয়াহিদুল ইব তালাত ফী তরাদীদে মাফী রাফিউল ইশকিলাত, দাফিউস শুবহাত ফী জাওয়াজিল ইস্তিজারি আলাত তায়াত, আত তাওজিহাতুর কাহিয়্যা ফী তারদীদি মা ফী তানকি হাতীচ্ছুনিয়া সহ আরো অন্যান্য কিতাব। আল্লামা আমিনুল হক শাহ্ ফরহাদাবাদী নির্ভিজাল একজন আশেকানে অলিউল্লাহ ছিলেন। এই মহান অলিয়ে কামেল ১৯৪৪ খ্রিষ্টাদ্বে ২৭শে জিলহজ মোতাবেক ২৭শে অগ্রাহয়ন বুধবার যোহরের নামাজের পর ৭৯ বছর বয়সে মহান রাব্বুল আল-আমিন এর ডাকে সাড়া দিয়ে ইহকাল থেকে পর্দা করেন। ১২ই ডিসেম্বর তার ৮১তম ওফাত দিবস। এই মহামনিষীর ওরশে পাকে মহান আল্লাহ আমাদেরকে বাহরুল উলুম এর রুহানী ইমানী ইলমি ফজুয়াত ও বরকত নসীব করুক এবং তার রওজা শরীফে আল্লাহ পাকের ভক্ত আশেকের প্রতি অগনিত রহমত বর্ষিত হউক । আমীন, সুম্মা আমিন

Related Posts