চট্টগ্রাম বিনোদন

থিয়েটারে ক্লাসিক্যাল তবলা স্টুডেন্টস ফোরাম’র ‘তবলা তরঙ্গিনী’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

 

 

ক্লাসিক্যাল তবলা স্টুডেন্টস ফোরাম, বাংলাদেশ’র ৮ম বর্ষপুর্তি উপলক্ষে উপমহাদেশের দুই বিখ্যাত তবলাগুণী পন্ডিত বিজন কুমার চৌধুরী ও ওস্তাদ সাবির খাঁ-এর স্মরণানুষ্ঠান, উচ্চাঙ্গ তবলা লহড়া ও শাস্ত্রীয় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘তবলা তরঙ্গিনী’ শীর্ষক অনুষ্ঠান আজ ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চট্টগ্রাম নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে উক্ত অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত, বাংলা একাডেমি ফেলোশীপপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বংশীবাদক ওস্তাদ ক্যাপ্টেন আজিজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক ওসমান গণি মনসুর, চমেক হাসপাতালের অধ্যাপক (অব.) ডাঃ রজত কুমার বিশ্বাস, বিশিষ্ট শিল্পপতি, কণ্ঠশিল্পী রিয়াজ ওয়ায়েজ ও বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ডা. বি.কে সেনগুপ্ত। সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সিনিয়র সঙ্গীত প্রশিক্ষক, বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের সঙ্গীতশিল্পী মোস্তফা কামাল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন বিশিষ্ট সংগঠক ও বাচিক শিল্পী সঞ্জিত আলম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের আহবায়ক প্রকৌশলী অনয় চক্রবর্তী, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক তবলা প্রশিক্ষক পলাশ দেব। শিল্পী ফারুক আহমদ, শিল্পী শাশ্বত বিশ্বাস মনোমুগ্ধকর উচ্চাঙ্গ সংগীত ও ক্লাসিক্যাল তবলা স্টুডেন্টস ফোরামের সদস্যবৃন্দ তবলা লহড়া পরিবেশন করেন। প্রাণবন্ত আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সংগীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে মুখর হয়ে ওঠে পুরো থিয়েটার মিলনায়তন। মনোমুগ্ধকর এই পরিবেশনায় দর্শক-শ্রোতারা উপভোগ করেন শুদ্ধ সংগীতের এক অনন্য আসর। এই আয়োজন প্রমাণ করেছে ক্লাসিক্যাল তবলা স্টুডেন্টস ফোরাম, বাংলাদেশ কেবল একটি সংগীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি চলমান সাংস্কৃতিক আন্দোলন, যা ভবিষ্যতেও শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাবে।
অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় অতিথিবৃন্দ বলেন, সংগীত মানুষের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি দেশের ইতিহাস, জীবনধারা ও মূল্যবোধ সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। উচ্চাঙ্গ সংগীত, তবলার লহড়, পুরানো দিনের গান, লোকগান, দেশাত্মবোধক গান কিংবা ঐতিহ্যবাহী সংগীতের মাধ্যমে একটি জাতির পরিচয় বহন করা হয়। ফলে সংগীত একটি দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বক্তারা বলেন, ক্লাসিক্যাল তবলা স্টুডেন্টস ফোরাম ৮ বছর ধরে শুদ্ধ সংগীতচর্চা ও সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তারা স্মরণ করেন হারানো দিনের সেই সুরেলা সংগীতকে-যেখানে কথার সঙ্গে সুরের এক অনবদ্য মেলবন্ধন ছিল, ছিল মানবিকতা, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং জীবনের সরল আবেগের নিখুঁত প্রকাশ।
বক্তারা আরও বলেন, সেই সময়ের গান কেবল বিনোদনের মাধ্যমই ছিল না, বরং তা ছিল আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ ধারক, যা মানুষকে ভাবতে, অনুভব করতে এবং সমাজকে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে সহায়তা করেছে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্যবাহী সংগীতের মূল্য তুলে ধরতে এমন আয়োজনের গুরুত্ব অপরিসীম। নতুন প্রজন্ম অতীতের এই সুরধারাকে ধারণ করে ভবিষ্যতের সংগীতকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং সবাইকে এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় এগিয়ে আসবে। ##

Related Posts