চট্টগ্রাম পরিবেশ

চট্টগ্রামে  ১ জুলাই থেকে পলিথিন নিষিদ্ধ 

 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) রাকিব হাসান বলেছেন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন বা পলিথিন সামগ্রী ব্যবহারের ফলে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে এই ভয়াবহ অবস্থা ব্যাপক আকার ধারণ করে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে হবে। পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে পাঠ্য পুস্তকে লিপিবদ্ধ করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গোচরে আনার পাশাপাশি এ ব্যাপারে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে কর্মশালার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীকে সচেতন করতে হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে পলিথিন ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে কার্যকরী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ৩১ মে বুধবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘পলিথিনমুক্ত চট্টগ্রাম বাস্তবায়ন’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পলিথিন উৎপাদনের কারণে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন শপিং ব্যাগ বা পলিইথাইলিন বা পলিপ্রপাইলিনের তৈরী সামগ্রী আমদানি, বাজারজাতকরণ, বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শন, মজুদ, বিতরণ ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিবহণ নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (২০১০ সনের ৫০ নং আইন সংশোধিত) প্রণয়ন করা হয়। এ আইন বাস্তবায়নে পলিথিন বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধের নিমিত্তে জনসাধারণ ও ভোক্তা পর্যায়ে সচেতন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সভা-সেমিনার আয়োজন পূর্বক কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পলিথিন উৎপাদনকারী কারখানা বন্ধের নিমিত্তে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা গোয়েন্দা সংস্থা কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যমে পলিথিন তৈরির কাঁচামাল আমদানি প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। পলিথিন উৎপাদন, ব্যবহার, মজুদ ও বাজারজাতকারীর উপর সংশ্লিষ্ট আইন যথাযথ প্রয়োগের (মোবাইল কোর্ট) মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ এ বর্ণিত ১৯টি পণ্য (ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার, চিনি, মরিচ, হলুদ, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডাল, ধনিয়া, আলু, আটা, ময়দা, তুষ-খুদ-কুড়া, পোলট্রি ও ফিস ফিড) পাটের মোড়ক ব্যবহারের জন্য নির্দেশনা রয়েছে। এসব পণ্য সমূহে যে সকল উৎপাদনকারী পলিথিন জাতীয় পণ্য ব্যবহার করেন তাদের বিরুদ্ধে মহানগরী এলাকায় অচিরেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মোঃ তৌহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিমিয় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক অহিদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন, সাবেক পরিচারক মাহফুজুল হক শাহ, সিএমপি’র সহকারী পুলিশ কমিশনার (সদর) মোঃ মঈনুর রহমান, ক্যাব’র মহানগর সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী প্রমূখ। চট্টগ্রাম চেম্বার, উইমেন চেম্বার, ক্যাব, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধি, সরকারী কর্মকর্তা ও এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিগণ সভায় অংশ নেন। ###

Related Posts