রতন কান্তি দেবাশীষ,চট্টগ্রাম
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে এবার নতুন মুখ এসেছে ৭টিতে,পুরনোরা রয়ে গেছেন ৭টিতে। নতুন ৭টির ৩টিতে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তিন মন্ত্রীর তিন জনই জয় লাভ করেছেন। এবার ১২টিতে নৌকা, তিনটিতে স্বতন্ত্র এবং একটিতে জাতীয় জয় পায়। ৯টি আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হন দলীয় স্বতন্ত্ররাই। ৫টি আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জিততে তেমন বেগ পেতে হয়নি। এগুলো হচ্ছে, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড), চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান), চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনীয়া), চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) এবং চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী)।
৭টিতে নতুন মুখঃ
নতুন মুখেরা হলেন- মীরসরাইয়ে মাহবুব উর রহমান রুহেল, ফটিকছড়িতে খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, সীতাকুণ্ডে এস এম আল মামুন, চান্দগাঁও-বোয়ালখালীতে আবদুচ ছালাম, পটিয়ায় মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় আবদুল মোতালেব এবং বাঁশখালীতে মুজিবুর রহমান।
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে এবার প্রথমবারের মত ভোটের লড়াইয়ে নেমে জয়ী হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে মাহবুব রহমান রুহেল।
তিনি ৮৯ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে প্রথমবারের মতো দলের মনোনয়ন পেয়ে সরাসরি ভোটে প্রার্থী হন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি খাদিজাতুল আনোয়ার সনি।
এই আসনে ১ লাখ ৬৮৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন সনি।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে প্রথমবারের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন আওয়ামী লীগের প্রার্তী এস এম আল মামুন। নৌকা প্রতীক নিয়ে এস এম আল মামুন ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৮ চান্দগাঁও ও বোয়ালখালী আসনে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুচ ছালাম ৭৮ হাজার ২৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী। তিনি ১ লাখ ২০ হাজার ৩১৩ ভোট পেয়ে বিরাট ব্যবধানে জয়ী হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে অনেকটা চমক দেখিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মোতালেব জয় লাভ করেছেন। তিনি পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৬২৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন মোতালেব। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবু রেজা মো. নেজামুদ্দিন নদভীকে হারান।
চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান ৫৭ হাজার ৪১১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
পুরাতন মুখঃ
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান মিতা।
নৌকা প্রতীকে মিতা পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৭৫৬ ভোট। তিনি এর আগে পর পর দুবার এমপি নির্বাচিত হন।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে টানা চতুর্থবারের মত জয়ী হয়েছেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি পেয়েছেন ৫০ হাজার ৯৭৭ ভোট।
চট্টগ্রাম-৬ রাউজান আসনে টানা পঞ্চমবার নৌকা প্রতীকে জয়ী হয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ২১ হাজার ৫৭২ ভোট।
চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী আংশিক আসনে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি। তিনি এই আসন থেকে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯৭৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালী আসনে বড় ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী হয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৯৯৩ ভোট।
চট্টগ্রাম-১০ (ভবলমুরিং-পাঁচলাইশ) আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন বর্তমান এমপি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চু। তিনি পেয়েছেন ৫৯ হাজার ২৪ ভোট।
দেশের হৃদপিণ্ড খ্যাত চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর) আসনে টানা চতুর্থবার জয় পেয়েছেন এম আবদুল লতিফ। তিনি পেয়েছেন ৫১ হাজার ৪৯৪ ভোট।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীর প্রার্থী ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। এনিয়ে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য হলেন তিনি।
এবার সাইফুজ্জামান ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান এমপি মো. নজরুল ইসলাম। তিনি এই আসন থেকে ৭১ হাজার ১২৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
এবার জাতীয় পাটিকে দুটি আসন ছেড়ে দেয়া হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৫ আসনে আনিসুল ইসলাম মাহমুূদ হয় লাভ করলেও চট্টগ্রাম-৮ আসনে সোলায়মান আলম শেঠের চরম ভরাডুবি ঘটে।
রাজনীতিবিদ পিতার সন্তান এবার প্রথমবারের মত জয়ী হয়েছেন তিনজন।নতুন তিন মুখ হলো চট্টগ্রাম-১ আসনের ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ পুত্র রুহেল, চট্টগ্রাম-২ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে খাদিজাতুল আনোয়ার সনি এবং চট্টগ্রাম-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আবুল কাশেম মাস্টারের ছেলে এস এম আল মামুন।












