প্রতারণা করে ভূমি রেজিস্ট্রিসহ জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভূমির নামজারী ও বিক্রির মামলায় জেলে থাকা সন্দ্বীপেরএকটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দক্ষিণা রঞ্জন মজুমদার ও তার স্ত্রী হ্যাপী রানী নন্দীর জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ ২১ জুন রোববার চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৬ষ্ঠ আমলী আদালতের বিজ্ঞ বিচারক এস.এম আলাউদ্দিন মাহমুদ শুনানী শেষে শিক্ষক দম্পতির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। মামলার বাদী সন্দ্বীপের একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রতন কান্তি দাশের আইনজীবি এডভোকেট বিশ্বজিত ধর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানাভূক্ত আসামী ও চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার ৫৫নং রহমতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দক্ষিণা রঞ্জন মজুমদার (৪২) এবং তার স্ত্রী হ্যাপী রানী নন্দী (৩৫) গত বুধবার (১৭ জুন) একই আদালতে এসে আত্মসমর্পন পূর্বক জামিন চাইতে গেলে আদালত শুনানী শেষে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। শিক্ষক দক্ষিণা রঞ্জন মজুমদার সন্দ্বীপ উপজেলার রহমতপুর ৩নং ওয়ার্ডের মৃত ধীরেন্দ্র মজুমদারের পুত্র।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখে সন্দ্বীপ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ৪৪২৯ নং পাওয়ার অব অ্যাটর্নিমূলে জমি রেজিস্ট্রি করেন এবং ২০২৩ সালের ৯ মে তারিখে ১৯৫৭ নং রেজিস্ট্রিকৃত সাফ কবলা ও একই সালের ৮ জুন তারিখে ২৩৩১ ও ২৫৩২ নং সাফ কবলা রহমতপুরের একটি জায়গার রেজিস্ট্রি করান শিক্ষক দক্ষিণা রঞ্জন মজুমদার গং। তারা প্রতারণার মাধ্যমে জাল দলিলকে বৈধ দলিল হিসেবে ব্যবহার করে সন্দ্বীপ সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে আবেদন করে ৪৩১০ নং বি.এস খতিয়ান সৃজন করেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট জমি বিক্রি করতে থাকেন।এর প্রতিবাদ করায় ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সকালে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর হাউজিং সোসাইটি এলাকার আই-ব্লক এলাকায় একা পেয়ে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রতন কান্তি দাশের উপর হামলা করেন শিক্ষক দক্ষিণা রঞ্জন মজুমদার গং। এ ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রতন দাশ বাদী হয়ে সিএমএম আদালতে একটি সি.আর মামলা করেন। মামলা নং-৭২৪/২৫ (হালিশহর), ধারা-৪০৬/৪২০/৩৪ দঃবিঃ। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্টোকে নির্দেশ দেন। পিবিআই’র নিরপেক্ষ দীর্ঘ তদন্তে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে জায়গা রেজিস্ট্রি এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে মারধরের ঘটনা প্রমাণিত হয়। পিবিআই থেকে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে প্রেরণ করার পর আদালত মামলার অভিযুক্ত সন্দ্বীপ উপজেলার ৫৫নং রহমতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দক্ষিণা রঞ্জন মজুমদার ও তার স্ত্রী হ্যাপী রানী নন্দীসহ অপরাপর আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর খবর পেয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে ম্যানেজ করে শিক্ষক দক্ষিণা রঞ্জন মজুমদার দুই দফায় চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকেন। গত ১৭ জুন বুধবার মামলার আসামী শিক্ষক দক্ষিণা রঞ্জন মজুমদার দম্পতি চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৬ষ্ঠ আমলী আদালতে এসে আত্মসমর্পন করে জামিন চাইতে গেলে আদালত শুনানী শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। আজ ২১ জুন রোববার শিক্ষক দম্পতি একই আদালতে জামিনের আবেদন জানালে আদালত শুনানী শেষে নামঞ্জুর করেন। এ মামলার অপরাপর আসামীরাও ইতোপূর্বে জামিনের জন্য আদালতে আত্মসমর্পন করলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল-হাজতে প্রেরণ করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফিরোজ আহমদ জানান, শিক্ষক দক্ষিণা রঞ্জন মজুমদার ও তার স্ত্রী হ্যাপী রানী নন্দী একটি মামলায় জেলে থাকার খবর পেয়েছি। সন্দ্বীপ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে এ ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্ত করে আগামীকাল ২২ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে চিঠি দিয়েছি। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ##












