জাতীয় বিশেষ

সংসদে প্রথম বক্তব্যে ফটিকছড়ির উন্নয়নের দাবি সাংসদ সারওয়ার আলমগীরের

 

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সারওয়ার আলমগীর জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো বক্তব্য রেখেছেন।
বক্তব্যের শুরুতে সারওয়ার আলমগীর মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সংসদে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় স্পিকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনি সংসদে এসেছেন এবং ফটিকছড়ির মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বক্তব্যে তিনি চট্টগ্রাম ও ফটিকছড়ির ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করেন। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় সংসদে যোগ দিতে না পারার কারণে তার নির্বাচনী এলাকার মানুষ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, এত প্রতিকূলতার মধ্যে মাত্র ছয় দিন প্রচারণার সুযোগ পেয়েও ফটিকছড়ির সাধারণ মানুষ তাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তার প্রাপ্ত ভোটের অর্ধেকের চেয়েও কম ভোট পেয়েছেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে আইনি লড়াইয়ে সব ষড়যন্ত্র ভেদ করে জিতেই তিনি এই পবিত্র সংসদে এসেছেন বলে জানান এবং পুনর্ব্যক্ত করেন যে, জনগণই সব ক্ষমতার উৎস।
সংসদ সদস্য সারোয়ার আলমগীর বলেন, ‘ সূর্য সেন, প্রীতিলতা ও মনিরুজ্জামান ইসলামবাদীর স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রাম মূলত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি মজবুত ঘাঁটি। ১৯৭১ সালে যখন দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এক চরম সংকটে ব্যর্থ হয়েছিল, তখন শহীদ জিয়াই কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ফটিকছড়ি ছিল শহীদ জিয়ার অত্যন্ত প্রিয় একটি নির্বাচনী এলাকা। আর সেই ফটিকছড়ির সচেতন জনগণ বিপুল ভোটে বিজয়ী করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই মর্যাদাপূর্ণ আসনটি উপহার দিয়েছেন।
সারওয়ার আলমগীর বলেন, ফটিকছড়ির জনগণ বিপুল ভোটে তাকে নির্বাচিত করেছেন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তিনি এলাকার উন্নয়ন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জাতীয় সংসদে তুলে ধরবেন।
নিজের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগ ও আইনি লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত জনগণের সমর্থন এবং আদালতের রায়ের মাধ্যমে তিনি সংসদে আসার সুযোগ পেয়েছেন।
নিজের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও বাইরে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের চিত্র তুলে ধরে সরোয়ার আলমগীর বলেন, যারা প্রতিনিয়ত ইনসাফ ও ন্যায়ের কথা বলে, তারাই মূলত মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আমাকে জাতির কাছে ছোট ও হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যাংকের মামলা ছিল না। অথচ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখ পর্যন্ত তাকে আদালতের দরজায় দরজায় ঘুরে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
বক্তব্যের শেষ অংশে সারওয়ার আলমগীর ফটিকছড়ির উন্নয়নে সরকারের বিশেষ নজর কামনা করেন এবং তাকে নির্বাচিত করার জন্য এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

Related Posts