নির্মাণাধীন চাক্তাই খাল স্লুইস গেইটটি চালু না হওয়ায় ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের সময় দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ ও আসাদগঞ্জের বড় অংশ তলিয়ে গিয়েছিল বলে সেখানকার ব্যবসায়ীর জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়ৎদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি সংবাদ সম্মেলনে গেইটটির কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি তুলেছেন।
এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বলছে, গেইটটির ভৌত কাজ শেষ হলেও ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কাজ বাকি। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে গেইটটি চালু করা হতে পারে।
২৪ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে বৃষ্টি শুরুর পরই ওই এলাকায় পানি জমতে শুরু করে। রাত বাড়ার সঙ্গে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে কয়েক ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের কারণে কর্ণফুলীর পানির তোড় চাক্তাই খাল ধরে আসে।
সেদিন রাত ৯টার দিকে খাতুনগঞ্জ, আসাদগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ শুরু হয়। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই পুরো এলাকা তলিয়ে যায়। গুদাম ও দোকানে থাকা পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মসলা, চাল, গমের মত নিত্যপণ্য ডুবে যায় জোয়ারের পানিতে।
এছাড়া বছরের অন্যান্য সময়ও জোয়ারের পানিতে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
খালটির তলা পাকাকরণ, খালের পাড় পাকা ও খননসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি।
সবশেষ ২০১৮ সালের মাঝামাঝিতে কর্ণফুলীর সঙ্গে চাক্তাই খাল যেখানে মিশেছে সেই অংশে ৬০ মিটার দৈর্ঘ্য, ৩০ ফুট উঁচু ও ১২ মিটার প্রস্থের এই স্লুইস গেইটটির নির্মাণ কাজ শুরু করে সিডিএ। গত বছর বোট পাস (নৌকা চলাচলের অংশ) খুলে দেওয়ায় পণ্যবাহী ছোট নৌকা চলাচল করতে পারে।
সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “২০২০-২১ সালে মহামারীর ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না উঠতেই এবার সিত্রাংয়ের প্রভাব। গত সপ্তাহে যত পানি আমরা দেখলাম, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়েও ততটুকু পানি দেখিনি।
“চাক্তাইয়ের ৯০ শতাংশ এবং খাতুনগঞ্জের ৫০ শতাংশ দোকান ও গুদামে পানি ঢুকে গিয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ৪০০-৫০০ কোটি টাকার মালামাল ভিজে নষ্ট হয়েছে।”
তিনি বলেন, “জলোচ্ছ্বাসের কারণটা হচ্ছে মূলত আমাদের চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কর্ণফুলীর মুখে একটা স্লুইস গেইট নির্মাণ করা হয়েছে। আমাদের এলাকায় একটা স্লুইস গেইট হবে, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের ডেকে যতটুকু আলাপ-আলোচনা করা দরকার, ততটুকু কিন্তু হয়নি।”
জাহাঙ্গীর আরও বলেন, “একসময় আমাদের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য কিন্তু ৯০ শতাংশ নৌপথে করতাম। কালের পরিক্রমায় এখন ১০ শতাংশ নৌপথে এবং সড়ক পথে ৯০ শতাংশ করছি।
“যে ১০ শতাংশ নৌপথে হবার কথা বিশেষ করে কুতুবদিয়া, মহেশখালী, সন্দ্বীপসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেটাও এই স্লুইস গেটের কারণে সমস্যা হচ্ছে। ছোট নৌকায় নদীর মুখে নিয়ে বড় নৌকায় লোড করতে হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ছে। কোনো একটা বড় নৌকা ঢুকতে-বের হতে পারছে না। ডিঙি নৌকা একটা ঢুকলে বাকিগুলো অপেক্ষা করতে হয়।”
তিনি বলেন, “এই স্লুইস গেইট দিয়ে তো শুধু চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের পানি নয় পুরো চট্টগ্রাম শহরের পানি প্রবাহিত হবে।












