চট্টগ্রাম সংগঠন খবর

নগরীতে  মানসিক প্রতিবন্ধীরা পেল কোরবানির রান্নাকৃত মাংস

গত ২৯ জুন বৃহস্পতিবার ছিল ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা। মানব জীবনের অযাচিত পাশবিক চরিত্রকে বিসর্জন ও আত্মত্যাগের মহিমায় এ সময়ে সামর্থ্যবান মুসলিমরা পশু কোরবানি দিয়ে থেকে। নির্ধারিত আর্থিক অবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য এটি আবশ্যক। নীতিগতভাবে এ মাংসের এক তৃতীয়াংশ নিজ পরিবার ও অন্য দুই অংশ আত্মীয়-স্বজন-প্রতিবেশী এবং কোরবানি দিতে অক্ষমদের জন্য নির্ধারিত। ছবিতে দৃশ্যমান ব্যক্তি পবিত্র ঈদুল আযহার দিন বিকেল আনুমানিক পৌণে ৪টায় চট্টগ্রাম নগরীর নুর আহমদ সড়কের লাভ লেইনের মুখে সিএনজি টেক্সী থেকে বেরিয়ে এক মানসিক প্রতিবন্ধীর হাতে একটি প্যাকেট খাবার (কোরবানির রান্নাকৃত মাংস, ফিরনি ও রুটি) ও পানি তুলে দিতে দেখতেই বিষয়টি ক্যামেরাবন্দী করি। এর পর দেখলাম স্টেডিয়ামের দক্ষিণ পাশ দিয়ে তিনি সিআরবি, টাইগারপাস, লালখানবাজার ও ওয়াসা মোড় হয়ে জিইসি’র দিকে যাচ্ছেন। তাকে একটু অনুসরণ করলাম, এসময় দেখা যায়, শুধুমাত্র সাধারণ কোন ভিক্ষুককে নয়, শুধুমাত্র উদ্বাস্তুু ব্যক্তিকেই কোরবানির রান্নাকৃত প্যাকেটভর্তি গরুর মাংস, ফিরনি, রুটি ও পানি দিচ্ছে। এদের মধ্যে ২/১ জনকে এটি গ্রহণে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াও দেখতে পেলাম।
ওয়াসা মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতে তিনি জানান, আজকের দিবসে মুসলিম সমাজের প্রায় সকলের (ধনী-গরীব) কোরবানির মাংস খাওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তুু ভ্রাম্যমান মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কাঁচা মাংসের চেয়ে রান্নাকৃত মাংস চাওয়ার মতো মানসিক অবস্থাও তাদের নেই। ফলে এ দিনেও তারা কোরবানির মাংস খাওয়া থেকে বঞ্চিত থাকে বিধায় ২০১৮ সাল থেকে এ বিষয়টি উপলব্দি করে তাদের অ্যাড্রেস করতে সমর্থ হই এবং ঐ সময় থেকেই সামর্থ্য অনুসারে পবিত্র ঈদুল আযহার দিন নগরীর রাস্তায় ঘুরে ঘুরে এ হাদিয়াটুকুন পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করি। বুঝলাম, তিনি ধর্মানুরাগী হওয়ার পাশাপাশি অনুসরণীয় মানবতাবাদীও বটে। জানলাম, তাঁর নাম-ড. মোঃ আকবর হোসাইন। পেশাগত জীবনে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে কর্মরত। অবসর সময় সুযোগে সামর্থ্য অনুসারে এ সকল কাজে তিনি নিজের নিকট প্রতিশ্রæত বলে অবসরে মানবতার বৈষম্যরোধে সামাজিক গবেষণায় নিজেকে ব্রত রাখেন। ###

Related Posts