চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য

হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। হাম নিমূলে সর্বত্র সচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত ৫ এপ্রিল থেকেই দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় জরুরি ভিত্তিতে প্রথম দফায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। এ সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার রামু, মহেশখালী, চাঁদপুর জেলা সদর ও হাইমচর উপজেলাও কর্মসূচী শুরু হয়। গত ১২ এপ্রিল ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, বরিশাল ও ময়মনসিংহে দ্বিতীয় দফায় হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে এই হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়ে যাবে। যাদের বয়স ৬ মাস থেকে পাঁচ বছরের কম তাদের অবশ্যই এই টিকার আওতায় আনা হবে। যে কোন মূল্যে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন সম্পন্ন করা হবে। স্বাস্থ্যসেবার মান আরও বেগবান করতে হলে উপজেলা পর্যায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ও কনসালট্যান্টদেরকে যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে। হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়ন ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ বিষয়ে আজ ১৫ এপ্রিল বুধবার নগরীর সিনেমা প্যালেস সংলগ্ন রয়েল রোডের চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বাস্থ্য বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাথে ভার্চুয়ালি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সহযোগী অধ্যাপক (কার্ডিওলজি) ডা. মোঃ একরাম হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোঃ তৌহিদুল আনোয়ার, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্টার ডা. ফারহানা জেরিন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এসআইএমও ডা. এফ.এম জাহিদ, ইউনিসেফ’র স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তা ডা, দেলোয়ার হোসেন। চট্টগ্রাম বিভাগের ১০ জেলার সিভিল সার্জন ও বিভিন্ন সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কগণ মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির কাছে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় আইসিডিডিআর,বি’র বরাত দিয়ে তিনি বলেন, হাম-রুবেলার জন্য সবাই হাসপাতালে আসবে না, তাদেরকে তৃণমূলে সেবা দিতে হবে। হাম বা মিজেলস একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত জ্বর শুরুর ৭-১০ দিনের মধ্যে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। হাম থেকে রক্ষায় শিশুকে বেশি করে তরল খাবারের পাশাপাশি অল্প অল্প করে পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। জ্বর হলে কুসুম গরম পানিতে শরীর মুছতে হবে। প্রয়োজনে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট দিতে হবে এবং চোখ পরিস্কার রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ’এ’ খেতে হবে। শিশুর শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হলে বা বুকের খাঁচা দেবে গেলে, তরল খাবার বা বুকের দুধ খেতে না পারলে, বারবার বমি হলে, খিঁচুনি, নিস্তেজ, তন্দ্রাচ্ছন্ন বা ডাকে সাড়া না দিলে, মুখে ঘা, চোখে সমস্যা বা চোখ খুলতে না পারলে এবং তীব্র পানি শূন্যতা বা অপুষ্টি-এগুলোর যে কোন একটি লক্ষণ দেখা দিলে দেরী না করে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিতে হবে। এ লক্ষ্যে সর্বত্র প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখতে হবে।
সভায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করণে করণীয় সম্পর্কে সিভিল সার্জনগণের মতামত নেয়া হয়। এ বিষয়ে প্রতিবন্ধকতা সমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে তৃণমূল পর্যায় থেকে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। আমরা মানুষের জন্য কাজ করছি। কিন্তু যদি আমরা বারবার মানুষের কাছে যেতে পারি, মানুষ জানবে আমাদের কাজের ফল, এই সুযোগে আমরা তাদের কাছে যাব। তাদের জন্যই আমরা কাজ নিয়ে এসেছি। আর এটি হল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ-শিশুদের সুরক্ষা।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, হাম একদিকে যেমন দ্রুত ছড়ায়, অন্যদিকে সঠিক সময়ে টিকার মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করাও বেশ সহজ। এটি মূলত ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা গোষ্ঠীগত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মতো কাজ করে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর বড় অংশকে যদি টিকার আওতায় এনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা যায়, তবে ওই এলাকার সব শিশু সুরক্ষিত থাকবে। অধিকাংশ শিশুকে এই টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হলে হাম ছড়ানোর আর কোনো সুযোগ থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।##

Related Posts