‘ছাত্রলীগ থেকে গুণ্ডা বের হয়,সন্ত্রাসী বের হয়’ চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিকের এমন বক্তব্যে চট্টগ্রাম জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এনিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
চট্টগ্রাম কলেজে মঙ্গলবার ছাত্রলীগের দুগ্রুপের পর কিছু অনলাইন টিভিতে তিনি এমন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ থেকে গুণ্ডারা বের হয়, সন্ত্রাসরা বের হয়। ছাত্রলীগ করতে করতে বর্তমানে ছাত্রলীগ কীভাবে করতে হয়, তা আমি জানি। তাছাড়া হাজার হাজার সংগঠক আমি তৈরি করেছি। আমাকে শেখাতে হবে না কিভাবে কী করতে হবে।’
মঙ্গলবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসের ইতিহাস বিভাগের সামনে বাকবিতণ্ডার পর উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সামনে ছাত্রলীগের দুগ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।
এতে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ আহত হন অন্তত ১০ জন। আহত শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। তবে আশরাফুল ইসলাম রাজ (২০) নামের এক ছাত্র গুরুতর আহত হওয়ায় তাঁকে মেডিকেলের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ‘হেডাম থাকলে সভাপতি মাহমুদুল করিম যদি সামনাসামনি দাঁড়িয়ে ফাইট করতে পারে, তবে আমি জুতার মালা পড়ে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে চলে যাবো।’
এর আগে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল অনুসারীর সঙ্গে কাউন্সিলর নুর মোস্তফা টিনু গ্রুপের অনুসারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মারমারির ঘটনায় প্রাণীবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের কক্ষেও ভাংচুর করে ছাত্রলীগের দুগ্রুপ। এ ঘটনায় কলেজ ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
যদিও উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বিভিন্ন সময় দাবি করে আসছেন, তার কোনো গ্রুপ নেই। তবে চট্টগ্রাম শহরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে রয়েছে নওফেল গ্রুপের অস্তিত্ব।
তার এ বক্তবের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন মহল বলছেন,আগামীর সোনার বাংলা বিনির্মাণে ছাত্রলীগের বিকল্প নেই। আর সেই ছাত্রলীগ থেকে গুন্ডা সন্ত্রাসী বের হয় বলে দেওয়া বক্তব্য জাতির জন্য খুবেই বেদনাদায়ক ও হুম্মকি। ছাত্রলীগ যদি গুন্ডা ও সন্ত্রাসী তৈরি করার মিশিন হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব হবে না। চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিকের বক্তব্যের পর ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক ছাত্রলীগ অনেক নেতারা সুভাষ মল্লিককে ২৪ ঘন্টার মধ্যে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান।
তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ চৌধুরী বলেন, তার (সুভাষ মল্লিক) বক্তব্য প্রসঙ্গে জেনেছি। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের সাথে কথা হয়েছে। বক্তব্যটা সরাসরি শুনিনি বলে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ, কয়েকদিন পরপরই পত্রিকার পাতার শিরোনাম হতে হয় চট্টগ্রাম কলেজকে। তবে সেটি ভালো রেজাল্ট করার জন্য না। কলেজ ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষের জন্য। গত এক বছরেই কয়েকদফা সংঘর্ষে জড়ায় বিবাদমান ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের অনুসারীরা। কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিমের গ্রুপটি হলো শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী এবং সাধারন সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর মোস্তফা টিনুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে চট্টগ্রাম কলেজে এসব সংঘর্ষের পিছনে যতনা ছাত্রলীগের কর্মীরা দায়ী তার চেয়ে বেশি দায়ী স্থানীয় কাউন্সিলর টিনুর প্রভাব বিস্তারের মোহ। চট্টগ্রাম কলেজ ও চকবাজার কেন্দ্রীক সব ধরনের মারামারিতে প্রত্যক্ষভাবে সমর্থন থাকে টিনুর। মারামারির সময় নিজের অনুসারীদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে টিনুর বিরুদ্ধে।
সর্বশেষ মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম কলেজে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের অনুসারীরা। এতে সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হওয়া, কলেজ সাধারণ সম্পাদকের আগ্রাসনী বক্তব্য এবং আহত শিক্ষার্থীদের আইনগত কোন বিচার না পাওয়া ও ভাংচুর ইত্যাদির পিছনে কাউন্সিলর নুর মোস্তফা টিনুর সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। কাউন্সিলর নুর মোস্তফা টিনু বলেন, একজন দায়িত্বশীল ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে তার গতকালে বক্তব্য দুঃখজনক এবং অনুচিৎ।












